আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মায়া চৌধুরীকে বরণ করে নিলো হাজারো নেতাকর্মী

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো’
কামরুজ্জামান হারুন :
মতলবের কৃতি সন্তান সাবেক ত্রাণ ও দর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) তাঁর নিজ এলাকা মতলব উত্তরে আসেন। শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে বিশাল গাড়ি বহরে নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।


তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপু, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম জজ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সম্পাদক আশফাক চৌধুরী মাহী, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, মায়া চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভীন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও দীপু চৌধুরীর সহধর্মিণী সূর্বনা চৌধুরী বীনা।


ঢাকা থেকে মতলব উত্তরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতা কর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। বেলা পৌনে তিনটায় শ্রীরায়েরচর-বাংলাবাজার ব্রীজে পৌঁছলে হাজার হাজার দলীয় নেতা কর্মী শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে।

সকাল থেকে মতলব উত্তর, দক্ষিণ, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। সেখানে মায়া চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরন করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড: রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোঃ জাহাঙ্গীর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টার, শাহজাহান প্রধান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মাষ্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড: সেলিম মিয়া, জেলা যুবলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান কালু, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক চৌধুরী বাবুল, ফতেপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী, সুলতানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক খোকন, কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান সোবহান সরকার সুভা, জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সরকার মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সলিম উল্লাহ বারী চৌধুরী সোহেল, ষাটনল ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ উল্লাহ সরকার, বাগানবাড়ি ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া, সাদুল্যাপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমেদ মুন্সী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম ডাবলু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সদস্য সচিব অ্যাড: আক্তারুজ্জামান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল মাহমুদ টিটু, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির খান, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রহমত উল্লাহ সরকার লিখন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তামজিদ সরকার রিয়াদ প্রমুখ।
বিকাল সাড়ে তিনটায় বাংলাবাজার থেকে গাড়ি বহর করে মেঘনা ধনাগোদা বেড়িবাঁধ দিয়ে রওয়ানা দেন। সন্ধ্যা ৬টায় মোহনপুরে তাঁর নিজ বাড়িতে গিয়ে পৌঁছেন।
আসার পথে কালীবাজার, বেলতলী, কালীপুর, ষাটনল, দশানী ও মোহনপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতা কর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন।
সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম পথ সভায় দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ভালোবাসার কথা কখনো বুলবো না। আমৃত্যু মতলববাসীর সেবা করে যাবো। আপনারা আমাকে ও আমার পরিবারকে যে ভালবাসা দেখালেন তা আজীবন স্মরনীয় হয়ে থাকবে। আমার পরিবার আপনাদের কাছে চিরঋনী হয়ে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যে সন্মান দিয়েছে আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। শেখ হাসিনা আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ কটেছে তা পূরণ করতে চেষ্টা করবো। আপনাদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো। বিএনপি-জামায়াতে দেশে নৈরাজ্য করার চেষ্টা করছে। সকলে মিলে তা প্রতিহত করবো ইনশাল্লাহ। আপনারা দলের আর্দশ মেনে চলবেন। শেখ হাসিনাার হাত শক্তিশালী করবেন এবং চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দান করেন। তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হবে ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণ হবে।
এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টায় মোহনপুরে আসার পথে মতলব উত্তরের শ্রীরায়েরচর বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিএনপি এখন এলোমেলোভাবে চলছে। দলীয় শৃঙ্খলা নেই বলেই দলটি আজ বিলুপ্তির পথে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল দল। কেননা, দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি দেশের উন্নয়নে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, এতিমদের টাকা আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মাথার ওপর। মানুষ হত্যাকারী ও অর্থ লুট-পাট যার নেশা, সেই তারেক রহমান বিদেশে পলাতক। আজ তাদের দল চলছে এলোমেলোভাবে। নেই কোনো শৃঙ্খলা। আর দলীয় শৃঙ্খলা নেই বলেই বিএনপি আজ বিলুপ্তির পথে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.