উন্নয়নের সুযোগে কেউ কেউ দুর্নীতি করার পরিকল্পনা করছে : জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ

জেলা পরিষদে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
অভিজিত রায় :
স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে চাঁদপুর জেলার মুক্তিযােদ্ধাদের সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলােচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মুক্তিযােদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় এবং চাঁদপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিনত হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে পদ্মা সেতু, স্বাস্থ্যখাতে উন্নত সেবা, গৃহহীনদের জন্য ২ শতক জমি, রাস্তা-ঘাটসহ সকল উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। আর এই উন্নয়নের সুযোগে কেউ কেউ দুর্নীতি করার পরিকল্পনা করছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে গেছেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনাদের ঋন শোধাবার নয়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আপনারা। জেলা প্রশাসক বলেন, যারা দুর্নীতি করে তাদের প্রতিহত করতে হবে। তিনি এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাহিত্যিক, নাট্যকার প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের একটি নাটকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই নাটকে একটা কথা ছিলো – তুই রাজাকার, আর সে নাটকেরই মতন এখন স্পষ্টতঃ দুর্নীতিবাজকে বলবেন – তুই দুর্নীতিবাজ। তিনি বলেন, ভাল কাজের সাথে অবশ্যই সকলকে থাকতে হবে। আমাদের যার যার কাজ সঠিকভাবে পালন করতে হবে। তাহলে সমাজের প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়ন হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ৫০ বছরের আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশের অনেক পার্থক্য। সবদিক দিয়ে আজকে উন্নয়ন হয়েছে। সকল দিকেই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি রেখেছেন। আমাদের চারপাশে তাকালেই বুঝা যায় জীবনমান যে কত উন্নত হয়েছে। মানুষের মধ্যে এখন আত্মসম্মান বোধ জন্ম হয়েছে। কেউ কেউ এইসব অর্জণ দুর্নীতির মাধ্যমে ম্লান করতে চাচ্ছেন। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। এখন রাজাকারের পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের ঘৃনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা আমাদের দেশ দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে আমরা সবাই একত্রিত ভাবে পাশে আছি। আগামী জাতির নির্বাচনে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনবেন। আমি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই নেত্রী যদি আমাকে জেলা পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। আর যদি আমাকে না দিয়ে, অন্য কাউকে দেন তাহলে তার পক্ষে কাজ করবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযােদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সকল অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মােহাম্মদ মিজানুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম চিশতী।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেলের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, বিএলএফ কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. হানিফ পাটওয়ারী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজ, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মহসীন পাঠান, মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহা, মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমান্ডার শহীদুল্লাহ তপাদার, কচুয়া উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার জাবের মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন সদর উপজেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম চিশতী। গীতা পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা সাধন সরকার।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.