কচুয়ায় ৭ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার! 

কচুয়া প্রতিনিধি :

কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের উত্তর অভয়পাড়া গ্রামে ইসমাইল প্রধানীয়া বাড়ির পাশে পুকুরের পাড়ে গাছের ঢালায় হঠাৎ একটি অজগর সাপের সন্ধান মিলেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে ওই গ্রামের মানিক নামের এক যুবক অজগর সাপটি দেখতে পেয়ে ধরতে গেলে সাপটি পাশ^বর্তী পুকুরে নেমে যায়। এসময় স্থানীয় আশে পাশের লোকজন ওই পুকুরে মাছ ধরার জাল ফেলে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টা চালয়ে অবশেষে প্রায় ৮ কেজি ওজনের অনুমান ৭ফুট লম্বা অজগর সাপটিকে জীবিত উদ্ধারের পর বস্তাবন্দি করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুছ মুন্সী জানান, ধারনা করা হচ্ছে সাপটি কোনো কবরস্থানে ছিল। হঠাৎ সেটি বেরিয়ে লোকালয়ে আসে। তবে পুকুরে জাল ফেলে সাপটিকে আটকের পর অভয়পাড়া বাজারে নিয়ে আসে স্থানীয় জনতা। সাপটি কোথায় থেকে কীভাবে এলো তা রহস্যজনক। অজগর সাপটি আটকের পর দেখতে বর্তমানে উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে বলে তিনি জানান।

ঢাবি শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম আরশ বলেন, অজগর সাপ অজোপাড়া গাঁয়ে উদ্ধারের বিষয়টি খুবই অদ্ভুত ব্যাপার। যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ তা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু উপজেলা প্রানী সম্পদ ও বন বিভাগ সাপটি উদ্ধারে কিংবা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এখানো কোনো সহযোগিতা করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বলেন, বিষয়টি শুনে আমি তাৎক্ষনিক বন অফিসারকে ফোন করে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোস্তফাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। মোস্তফা মিয়া ঘটনাস্থলে পৌছে সাপটি জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে কচুয়ায় নিয়ে আসে।

বন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, এই অজগরটি আমাদের জিম্মায় রয়েছে। এটি বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জে আনা হবে। পরে কুমিল্লার রাজেশপুর ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হবে। কিভাবে এ অজগরটি এ লোকালয়ে এলো এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য বিস্ময়কর। তবে যেহেতু এ ধরনের সরিশৃপ প্রাণীসহ অন্যান্য প্রাণীদের আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বনে তাদের খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে ফলে তারা এ ধরনের লোকালয়কে বেছে নিয়েছে। এ অঞ্চলে আরও অজগর থাকতে পারে কি না এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। যেহেতু এখানে একটি অজগর পাওয়া গেছে, আরও থাকলেও থাকতে পারে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭টি রাসেল ভাইপার ধৃত করা হয়েছে। তাই যেভাবেই হোক তারা এ এলাকায় আসছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *