কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ১৯ জুলাই প্রকৌশলীকে মারধর করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এ ঘটনার ৪ দিনের মধ্যেই উপজেলা চেয়ারম্যানকে বহিস্কার করা হলো।
গতকাল ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কর্তৃক গত ১৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সাথে কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৬তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজে ঠিকাদার নির্মাণ কাজ ঠিকমতো করছে না ও পাথরের গুণগত মান নিয়ে আপত্তি ইত্যাদি কারণে পরিদর্শনকালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী  প্রকৌশলী মো. নূর আলম ঘুষি, চড়, থাপ্পর মারেন ও বাশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। যেহেতু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সম্পাদিত এহেন কর্মকাণ্ড উপজেলা পরিষদে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে যা সার্বিকভাবে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অচলাবস্থার সৃষ্টি ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশংকাসহ অন্যান্য উপজেলা পরিষদে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
যেহেতু উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ১৩ ধারা অনুসারে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং তার এ পদে বহাল থেকে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা রাষ্ট্র বা পরিষদের স্বার্থের হানিকর, সেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গস্খহণ করেছেন।
এমতাবস্থায় উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ১৩খ ধারা অনুসারে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো এবং কচুয়া উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হলো।
এ আদেশ জনস্বার্থে জারী করা হলো এবং অবিলম্বে তা কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কচুয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়মের কারণে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই উপসহকারী প্রকৌশলী ওই সাইট পরিদর্শনে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজন তার উপর চড়াও হন। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রকৌশলী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *