কঠোর লকডাউনে ফাঁকা চাঁদপুর

আশিক বিন রহিম :
চাঁদপুরে লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন তারা। এতে করে এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে চাঁদপুর শহর। জরুরী প্রয়োজনীয় ও খাবার দোকান ছাড়া চাঁদপুর শহরের অন্যান্য দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ রয়েছে। লঞ্চ, ট্রেন ও বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে কিছু লোক রাস্তায় বের হয়েছেন। তাদের বাহন হিসেবে রয়েছে রিক্সা। তবে মূল সড়কগুলোর তুলনায় শহরের পাড়া-মহল্লায় রাস্তাগুলোতে দুপুরের পর মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যায়। প্রায় একই চিত্র উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকাগুলোতেও। যদিও বিকেলের দিকে শহরে কিছু ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চলাচল করতে দেখা যায়।


শহর ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরে রিক্সা, মোটরসাইকেল আর পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া তেমন কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় নি। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর নজরদারী করতে দেখা গেছে।
পুলিশ প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল বা রিক্সা দেখলেই তা থামিয়ে বের হওয়ার কারন জানছেন। কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে বাইরে বের হওয়ার কারণ একেবারে অযৌক্তিক হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় ছাড়া দেয়া হচ্ছে।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী ও বিজিবি নিজস্ব গাড়িবহর নিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিতে দেখা গেছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অসিম চন্দ্র বণিক বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি ইউনিট হয়ে কাজ করছে। সরকারি কোন নির্দেশনা কেউ ভঙ্গ করছেন কি না তা তারা দেখছেন। তাদের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সদর এবং হাজীগঞ্জে দু প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, আপনারা জানেন যে সারাদেশে করণা পরিস্থিতি উর্ধগতীর দিকে যাচ্ছে। সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে সিভিল প্রশাসনকে সহায়তারজন্যে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে।
আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই করোনা পরিস্থিতিতে সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেটি যাতে সবাই পালন করে সে অনুরোধ রাখছি।
চাঁদপুর শহরের শপথচত্বর এলাকায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যারা চলাচল করতে পারবেন, আমরা শুধু তাদেরই অ্যালাও করছি। বাকিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।
এ সময়ে জরুরি সেবা দেয়া দফতর-সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসররকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। জনসমাবেশ হয় এমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *