করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস এড়াতে আরও যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মেনে চলতে বলছেন সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট পেশাজীবীর বাইরে বের হতে হয়। এছাড়াও একান্ত প্রয়োজনে বের হতে হচ্ছে অনেককেই। মুখে মাস্ক পরে বাইরে বের হওয়া, বাড়ি ফিরে হাতে সাবান দেয়া, হাতে স্যানিটাইজার দেয়া এসব সবারই রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শুধু এটুকু করলেই যে করোনাভাইরাসের কবল এড়িয়ে চলতে পারবেন তা কিন্তু নয়। মেনে চলতে হবে আরও কিছু নিয়ম।

ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নিজের ‘ইনেট ইমিউনিটি’ অর্থাৎ শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। বাড়িতে রান্না টাটকা, হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া দরকার। সকালে ঘুম থেকে উঠে চা পানের আগে গরম পানিতে একটা লেবুর রস ও সামান্য আদার রস মিশিয়ে খেলে গলাসহ শ্বাসনালী পরিষ্কার থাকবে একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

সার্জিকাল মাস্ক না থাকলে তিনটি লেয়ার-যুক্ত মাস্ক বাড়িতে বানিয়ে পরুন। অফিসে যাওয়ার পর মাস্ক খুলে রাখবেন না। কারণ ইদানীং এমন মানুষের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি যাদের শরীরে করোনাভাইরাস থাকলেও সর্দি-জ্বর বা কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই এই সাবধানতাটুকু মেনে চলা দরকার।

মাস্ক পরেই কথা বলুন, গলায় নামিয়ে রাখা ঠিক নয়। কথা বলার সময় অদৃশ্য ভাইরাস নাকে-মুখে চলে যেতে পারে।

অফিসে গেলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যান। আস্ত ফল নিয়ে যেতে পারেন। কলা, আপেল, আঙুর, খোসাসহ সেদ্ধ ডিম ইত্যাদি। খাওয়ার আগে মাস্ক খুলে গলায় ঝুলিয়ে রেখে হাত মুখ সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফল থাকলে তাও ধুয়ে নিন।

এখন সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে না খেয়ে একা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাইরের খাবার খাবেন না।

টাকাপয়সা ও মোবাইল থেকে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি খুব বেশি।

অফিস যাওয়ার সময় মোবাইল প্লাস্টিকের মধ্যে পুরে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখাই শ্রেয়।

বাজারে বা বাইরে টাকাপয়সা ফেরত নিলে তা আলাদা প্লাস্টিকে রাখে দিন। সাবানপানিতে চুবিয়ে শুকিয়ে নিয়ে ব্যবহার করুন।

বাড়ি ফিরে জুতা হাতে নিয়ে সোজা বাথরুমে গিয়ে বালতিতে সাবানপানিেতে পোশাক ভিজিয়ে দিন, জুতা-মোজা ধুয়ে নিতে হবে। মোবাইলের খাপ আলাদা করে ধুয়ে নিন। মোবাইল বন্ধ করে স্যানিটাজার দিয়ে পরিষ্কার করে মুছে নিন।

গোসল করে ঘরে ঢুকুন। বাজার যেতে হলেও বাইরের পোশাক ছেড়ে, কেচে এবং হাত-পা-মুখ সাবান দিয়ে পরিষ্কার তবেই ঘরে যান।

প্রতিদিন বাড়ি ফিরে মাস্ক সাবান দিয়ে কেচে নিতে হবে।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপের কীবোর্ড থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। অন্যের ব্যবহার করা কম্পিউটার ব্যবহার না করাই ভালো। অফিসে সে সুযোগ না থাকলে স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

লকডাউন প্রত্যাহার হওয়ার পরেও বরাবরের জন্য পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস থাকলে ভালো হয়। কারণ টিকা বা ওষুধ না আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত করোনা কিন্তু থেকে যাবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.