করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দী মানুষের পাশে পৌরমেয়র লিপন

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :

করোনা দুর্যোগে ঘরবন্দী মানুষের পাশে খাদ্য সামগ্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের নগদ অর্থ ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার নগদ টাকা বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হচ্ছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে সব এলাকা। মানুষের কাজ নেই, খাবার নেই। অসহায় মানুষ না খেয়ে দিন পার করছেন। গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বেড়েই চলছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দিনের পর দিন বাড়ছে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক। একদিকে যেমন বেড়েছে আতঙ্ক অপরদিকে বেড়েছে অসহায়দের মাঝে চিন্তা। বিপাকে পড়েছেন সমাজের অসহায় দিনমজুর ও ঘরবন্দী সাধারণ মানুষেরা। নেই কোন আয় রোজগারের উৎস। আয় রোজগারের অভাবে কিনতে পাড়ছেন না বাজার।

এমন পরিস্থিতিতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার অসহায়, ক্ষতিগ্রস্ত, দিনমজুর ও ঘরবন্দী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এবং পৌরসভার উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের নগদ অর্থ ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন পৌর মেয়র লিপন।

করোনা দুর্যোগের এমন পরিস্থিতি মেয়রকে ভিন্নরূপে দেখছেন হাজীগঞ্জ পৌরবাসী। দিন নেই, রাত নেই মানুষের সমস্যার কথা শুনলেই খাদ্য সহায়তা নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন তিনি। ছুটে চলছেন পৌরবাসীর দুয়ারে দুয়ারে ।

সরকারি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসহায়তার কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিপুল সংখ্যক মানুষ পথে পথে অপেক্ষা করেন মেয়রের জন্য।

ফলে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও অপেক্ষমাণ এসব মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। অসহায় মানুষগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে অসহায়-দুস্থদের আর্থিক সহযোগিতা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ এবং জনসচেতনতায় পৌরসভার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মাস্ক ও লিপলেট বিতরণসহ ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিনই তিনি এসব কার্যক্রম করে থাকেন।

এছাড়াও আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন ক্ষুদে শিশু-কিশোরদের মাঝে চকলেট বিতরণে এমন ব্যতিক্রমী কাজে প্রতিনিয়ত তিনি জনসাধারণের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

করোনাকালীন এ সময়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের বাড়িতে সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এবং পৌরসভার উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর কালে হাজির হন আমাদের এই প্রতিবেদক।

সেখানে গেলে কথা হয় মজিবুর রহমান সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমরা হাজীগঞ্জ বাজারে হকারি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করি। লকডাউনে যতবারই কর্মহীন হয়েছি ততবারই আমাদের পৌর মেয়র ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী ও বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করেছে।

পৌর ১০ নং ওয়ার্ডের আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী একজন রিকশাচালক। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে খেয়ে না খেয়ে ছিলাম। পৌর মেয়র লিপন ভাই আমাদের বাড়ীতে এশে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছেন।

পৌর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, পৌর মেয়র করোনা দুর্যোগে ১২ ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের নগদ অর্থ ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন।

হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন অলি-গলি ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জীবাণুনাশক এবং মশন নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান।

এছাড়া শহরবাসীকে সচেতন রাখতে নিয়মিত মাইকিং, বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছেন তিনি। দিয়েছেন মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জীবাণুনাশক স্প্রে।

হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন বলেন, দেশমাতৃকার জন্য কাজ করার শপথ নিয়েই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি। কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলে হবো, সে নিয়ে চিন্তা করি না। তারপরও যতটুকু সম্ভব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি। নিজে আক্রান্ত হওয়ার ভয় করে তো অসহায় মানুষকে সাহায্য করা থেকে এড়িয়ে যেতে পারি না। তাই সাধ্যমতো এ কর্মকাণ্ড চলমান ও চালিয়ে যাব।

তিনি বলেন, করোনাকালীন এ সময়ে যারা প্রবাসীক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এবং পৌরসভার উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। এরপরও কেউ সমস্যায় পড়লে তিনি তার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর মধ্যে হাজীগঞ্জ পৌরসভা অন্যতম। আর আমি এ পৌরসভায় টানা দ্বিতীয়বার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

মানুষ আমাকে সবসময় কাছে পেয়েছেন, তাই এবারও আমার হাতেই তারা এ পৌরবাসীর দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন।

আমার কাছে অর্থ বিত্তের চেয়ে মানুষের ভালবাসা বেশি দামি। আর সেই ভালবাসার তাগিদে মানুষ আমাকে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন।

আমি নিজেকে পৌরপিতা নয়, জনগণের একজন সেবক মনে করি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *