চাঁদপুরে অনুমোদনহীন ভেজাল মাঠা বিক্রি হচ্ছে

আশিক বিন রহিম :
পবিত্র মাহে পূঁজি করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন করা হচ্ছে ভেজাল মাঠা। যার কোনোরুপ বিএসটিআই কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোধন নেই। অনুমোদন বিহীন কোনো কারখানার মাঠার বোতলের ল্যাভেলে ভুয়া সিল, রেজেষ্টেশন নাম্বার থাকলেও বেশিরভাগ বিক্রি হচ্ছে ল্যাভেলহীন। রোজাদার মানুষের ক্লান্তি আর চাহিদাতে কাজে লাগিয়ে এসব মাঠা বাজারজাত করা হচ্ছে। যা শুধুমাত্র চাঁদপুরেই নয়, পাশ্ববর্তি জেলাতেও বিক্রি করা হচ্ছে।
অনুমোদনহীর এসব কারখানা বন্ধে এবছর প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি কিংবা অভিযান লক্ষ করা যায়নি। যার ফলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে তৈরী হচ্ছে এসব মাঠা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার ঘোষপাড়া মৈশালবাড়ি এলাকায় এসব ভেজাল মাঠার উৎপাদন বেশী হয়। এছাড়া সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন দোকানঘরসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাসা-বাড়িতে গড়ে ওঠেছে বিএসটিআই অনুমোদন বিহীন অন্তত অর্ধশতাধিক
কারখানা। এসব কারখানায় কোনোরূপ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই নষ্ট দুধ, চিনি, লবনসহ আরোও নানা উপাদান মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই ভেজাল মাঠা। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাঠা ঘন বা ভারি করতে টিস্যু ব্যবহার করা হয়। যা বিভিন্ন উপজেলায়র হাট-বাজারের দোকান, পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার মোড়ে বিক্রি করা হয়। এসব মাঠার বোতলে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তির্নের তারিখ নেই।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, এ কাজের সাথে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদিত মাঠার বোতলে নামি কোম্পানি স্টিকার ব্যবহার করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে অবৈধভাবে বিএসটিআইএর সিল ও অনুমোদন না থাকায় অজয় মাঠা, বৃস্টি পিউর মাঠা, শ্যামল মাঠাসহ কয়েকটি কারখানাকে ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করে।
চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি, মিশনরোড এলাকায় মাঠা বিক্রেতা অমল ঘোষ, বিমলসহ কয়েকজন জানায়, বোতলজাত করা প্রতি ১লিটার মাঠ ৫০ টাকা থেকে ৭০টাকা এবং ৫০০ মিঃলিঃ মাঠা ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা বিক্রি করা হয়। এছাড়া ছোট বোতলে ২৫০ মিঃলিঃ বিক্রি হয় ২৫ টাকা করে।
মেয়াদের কথা জানতে চাইলে তারা জানায়, বাপ-দাদার সময় থেকে আমাদের এই ব্যবসা। আগে আমরা গ্লাসে করে বিক্রি করতাম। এখন ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় বোতলে করে বিক্রি করছি। তারা আরো জানান আমরা ২থেকে ৩ মন দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করি। আর এইগুলো বিক্রয় করেই আমাদের সংসার চলে।
এ বিষয়ে কথা হয় জেলা মার্কেটিং অফিসার এন এম রেজাউল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, মাঠা মূলত কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য। আমাদের কাছে ৪টি কারখানার লাইসেন্সেরর অনুমোদন ছিল। যার মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাঠা তৈরির কারণে শ্রী কৃষ্ণ নামের একজনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আর ল্যাবেল ছাড়া মাঠা বিক্রয়ের কোন সুযোগ নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *