চাঁদপুরে অপহরনের ২২ ঘন্টা পর পুলিশী অভিযানে যুবক উদ্ধার, আটক ১

আশিক বিন রহিম :
চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখার মোড়ের মাদক ব্যবসায়ী ভ্যারাইটিজ রাসেলের বাসা থেকে অপহরন হওয়া যুবক জহির মোল্লা (২৫) নামের একজন কে উদ্ধার করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) আদর্শ মুসলিম পাড়া থেকে ২২ ঘন্টা পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জহির মোল্লা বাদী হয় একটি অপহরনের মামলা দায়ের করেন। যার নং-২৬। ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা প্রায় ৪ জনসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার বিষয়ে আজ ২৩ জুন মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আটক জিহান (১৯) কে উপস্থিত করে মিডিয়া ব্রিফিং করা হয়।
এসআই (উপ পরির্দশক) মনির হোসেন ও সংঙ্গীয় সদস্যরা জিহান (১৯) নামের এক অপহরনকারী কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
জহির মোল্লা সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়ন নিজ গাছতলা এলাকার মৃত আঃ হাফেজ মোল্লার ছেলে। সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আটক জিহান শহরের আদর্শ মুসলিম পাড়ার সাহেদ রেহান অরফে কালুর ছেলে।
উদ্ধার হওয়া জহির মোল্লা জানায়, গত রোববার সন্ধ্যায় আমি বাগাদী চৌরাস্তায় দাড়িঁয়ে বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় চাঁদপুর থেকে আসা একটি মটরসাইকেল আমার সামনে থামানো হয়।
মটরসাইকেলে থাকা জিহান ও আবদুল্লাহ কিছু বুঝে উঠার আগে আমাকে টি শার্টের কলার ধরে মটরসাইকেলে উঠার জন্য বলে। পরে আমাকে একটি টিপ ছুরি ধরে মটরসাইকেল করে শহরের চিত্রলেখা মোড়ের স্বর্ন বিতানের বিপরীত পাশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ভ্যারাইটিজ রাসেলের বাসায় নিয়ে আসে। পরে আমাকে জিহান, আবদুল্লাহ ও রাসেলসহ সকলে কিল, ঘুষি, লাথি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বৈদ্যুতিক তার হাতে নিয়ে সর্ট দেই দেই বলে ৩টি খালি ১শ টাকার স্ট্যাম্প এনে স্বাক্ষর করে নিয়ে যায়। এছাড়া পরিবারের কাছ থেকে মটরসাইকেল দিবে বলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মুক্তিপনের টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে সোমবার সকালে প্রচন্ড খুদা লাগার কথা বলায় ২টি পরটা তারা খাওয়ায়।
উদ্ধার হওয়া জহির মোল্লার বড় ভাই খোরশেদ আলম বাবুল মোল্লা জানায়, জহিরকে রোববার সন্ধ্যা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার জহিরের বন্ধু ফয়সাল আমাকে বিষয়টি জানালে আমি পুলিশের সহায়তায় রাসেলের বাড়ি থেকে আমার ছোটভাইকে উদ্ধার করি।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ভ্যারাইটিজ রাসেল ছোট ছোট কিশোর ও যুবকদের দিয়ে শহরের বিভিন্নস্থানে নানা অপকর্ম ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। তার ভাইদের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আদালত হুলিয়া জারি করে মালামাল ক্রোকেরও নির্দেশ দেয়।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোঃ নাসিম উদ্দিন জানান, আটককৃত ও মামলায় উল্লেখ ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *