চাঁদপুরে আইসিইউ বেড স্থাপন সম্পন্ন, শীঘ্রই চালু

চাঁদপুর প্রতিদিন রিপোর্ট :
আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বেড স্থাপনের করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে আইসিইউ কক্ষের কাজ। বেডগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পেলেই খুব দ্রুতই চালু হতে যাচ্ছে আইসিইউ সেবা। সবমিলে আইসিইউ বেডের সেবা পেতে লাগবে আরও কিছু দিন। চলতি মাসে চালু না হলেও আগামী মাসে আইসিইউ বেডগুলো চালু করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় আইসিইউ বেড ৩টি বৃহস্পতিবার ইনস্টল করা হয়। এরপর অক্সিজেন সংযোগের লোক এসে হাসপাতালের নিচতলায় থাকা বর্তমান সেন্ট্রাল অক্সিজেন থেকে আইসিইউতে সংযোগ দিবে। নির্মাণাধীন লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমান সেন্ট্রাল অক্সিজেন থেকেই আইসিইউতে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ চলবে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাবিব উল করিম বলেন, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। এর জন্যে অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তত্ত্বাবধায়ক বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি চাঁদপুরবাসীর জন্য আশীর্বাদ। তার দ্বারাই সম্ভব হয়েছে চাঁদপুরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরটি পিসিআর ল্যাব করা এবং হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন করা। এখনো আইসিইউ স্থাপনের কাজ তাঁর কারণেই খুব দ্রুত চলছে। তিনি এবং তার ভাই ডাঃ টিপু ভাই খুব সিরিয়াসলি বিষয়টি তদারকি করছেন। টিপু ভাই প্রায় প্রতিদিন এ বিষয়ে আমাকে ফোন দেন, এ বিষয়ে তাঁর সাথে কথাও হয়। তিনি জানান, আইসিইউর জন্যে প্রশিক্ষিত লোকবলের বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয় সক্রিয়ভাবে দেখছেন। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক এই প্রতিবেদককে আইসিইউর বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আইসিইউ বেড ইনস্টল সম্পন্ন হয়েছে। এখন আইসিইউ রুমের প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আইসিইউ বেডের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবলের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয়ের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু সরঞ্জামাাদি লাগবে। সব কিছু আশা করি খুব দ্রুতই পেয়ে যাবো এবং বেডগুলো চালু করা সম্ভব হবে।
আইসিইউর বেড সরবরাহকারী কোম্পানি জি টেক সলিউশন-এর সিনিয়র নির্বাহী তৌফিক ইসলাম জানান, যেখানে বেডগুলো ইনস্টল করা হয়েছে, সেখানে যে জায়গা আছে, তাতে পাঁচটি বেডের আইসিইউ সুন্দরভাবে চালানো যাবে বলে।
তিনি জানান, যেভাবে কাজ চলছে, যদি আইসিইউর জন্যে উপযোগী ডাক্তার, নার্সসহ অন্য লোকবল নিয়োগ হয়ে যায়, তাহলে আগামী ১৫ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে আইসিইউ চালু করা যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার জাহান ছিলেন। আর স্থানীয় পর্যায়ে ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাবিব উল করিম, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ, হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) ডাঃ আবু সাদাত মোঃ সায়েম এবং হাসপাতালের কিছু সিনিয়র নার্স।
জানা গেছে, দশ বেডের আইসিইউর জন্যে একশ’র উপরে লোকবল লাগে। এঁরা শুধুমাত্র আইসিইউর জন্যে নির্ধারিত। চব্বিশ ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে তাদের ডিউটি করতে হয়। সে হিসেবে তিন কি চার বেডের জন্যে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ জন জনবল লাগবে। সরকারিভাবেই তাঁদের এখানের জন্যে নিয়োগ দিতে হবে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, লোকবলের চাহিদা উপরে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ও জোরালোভাবে চেষ্টা করছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *