চাঁদপুরে চলতি সপ্তাহে চালু হচ্ছে লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট

আশিক বিন রহিম :
চাঁদপুর আড়াইশ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ প্রায় সম্পন্ন। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এ অক্সিজেন প্ল্যান্টটির সেবা কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এতে ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারের লিকুইড অক্সিজেন গ্যাসে রুপান্তর করা হবে। যার মাধ্যমে একসাথে ১শ’ ৫০ জন রুগীকে অক্সিজেন সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
১১ জুলাই রোববার এমনটাই জানিয়েছেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব উল করিম। তিনি জানান, নির্মাতারা জানিয়েছেন দু’ তিন দিনের মধ্যেই অক্সিজেন প্লান্ট চালু করা যাবে। তবে আমি ধরে নিয়েছি- চলতি সপ্তাহের মধ্যেই যে কোন দিন এটি চালু করা যাবে। তবে এখনো পর্যন্ত দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ না পাওয়াসহ কিছু সরঞ্জামাদির না থাকায় আইসিও বেডগুলো এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব উল করিম এ প্রতিবেদককে জানান, সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও করোনা আক্রান্তের হার বেড়ে চলেছে। করোনা রুগীদের চিকিৎসার জন্যে প্রচুর অক্সিজেন প্রয়োজন। বর্তমানে কুমিল্লা থেকে চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন এনে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চাঁদপুরে উচ্চ ক্ষমতার একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে, যা আমাদের জন্য সুখবর। লিকুইড প্ল্যান্টটি স্থাপিত হলে আমাদের জেলার বর্তমান চাহিদা পূরণ করে আরো চার-পাঁচ মাসের অক্সিজেন মজুদ রাখা যাবে। এছাড়া এখান থেকে অন্য জেলায় অক্সিজেন সরবরাহও করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো জানান, কিছুদিন পূর্বে আমরা ৩টি আইসিও বেড পেয়েছি। সেগুলো নির্ধারিত রুমে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোকবলসহ কিছু সরঞ্জামাদির না থাকায় বেডগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই বেডগুলো চালাতে আলাদাভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোক লাগবে। আমরা যতটুকু জেনেছি, সেন্ট্রালি আইসিও বেড চালানো লোকবল ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। ট্রেনিং সম্পন্ন হলো লোকবল নিয়োগ দেয়া হবে, আমরাও পাবো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই মাস আগে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ইউনাইটেড ন্যাশন ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন্স ইমার্জেন্সি ফান্ড (ইউনিসেফ) এর অর্থায়নে লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ শুরু করা হয়। যা বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। হাসপাতালের উত্তর পাশের খালি জায়গাটিতে ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারের প্ল্যান্টের অক্সিজেন সংরক্ষণের ট্যাংকি, সেবা কার্যক্রমের ভবনসহ সকল কাজও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এটি থেকে প্রায় দেড়শ’ আউটলেট সংযোগ দেয়া হয়েছে।
ওই সময় প্ল্যান্ট বসানোর কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী কামাল বলেন, চাঁদপুরসহ দেশের প্রায় ৩০টি জেলায় ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারের ধারণ ক্ষমতার লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হচ্ছে। মূল প্ল্যান্টটি হচ্ছে ছয় হাজার লিটারের। এটি যখন অক্সিজেনে রূপান্তর হয়, তখন ৫১ লাখ ৬০ হাজার মিলিলিটারে রূপান্তর হয়। এটির কাজ সম্পন্ন হলে চাঁদপুরের চাহিদা অনুযায়ী যে কোনো সময় লিকুইড অক্সিজেন পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপুর প্রচেষ্টায় করোনা আক্রান্তদের সেবায় হাই ফ্লো অক্সিজেন ন্যাজাল ক্যানোলা, নমুনা পরীক্ষার জন্য ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করা হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসের প্রচেষ্টায় আসে তিনটি আইসিইউ বেড।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *