চাঁদপুরে দু’ মাসে ৩১০ জেলের কারাদণ্ড, ৩৮ মেট্রিক টন জাটকা ৪৩৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

আশিক বিন রহিম :
জাটকা ইলিশ রক্ষায় ১মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস অভয়াশ্রম ঘোষিম মেঘনার নদীতে ৯০ কিলোমিটার এলাকায় সকল প্রকার মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো সরকার। সরকারের এই নির্দেশনা পালনে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে চাঁদপুরে মৎস্য বিভাগ, টাস্কফোর্স, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ নদী চষে বেড়িয়েছেন। এতোকিছুর পরেও আতিতের ন্যায় মৌসুমি জেলেরা অবাধে জাটকা ইলিশ নিধন করেছে।
জেলা ট্রাস্কফোর্সের দুই মাসে ৫৮২টি অভিযানে সাড়ে ৮ কোটি টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ৩১০ জন জেলেকে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৮৭টি। এছাড়া আরও সাড়ে ৪ শতাধিক কিশোর জেলেকে আটক করা হয়। যাদের অর্থদণ্ড করে ছেড়ে দেয়া হয়।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল এ দু’ মাসে জাটকা নিধনরোধে নদীতে ৫৮২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের অপরাধে ৯৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৮৭ মামলায় ৩১০ জন জেলেকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর সাড়ে ৪শতাধিক কিশোর জেলে আটকের পর অর্থদণ্ড করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৩৮ মেট্রিক টন জাটকা এবং ৪৩৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। এছাড়া শুধুমাত্র হাইমচর উপজেলাতেই জব্দকৃত জেলে নৌকা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৫ টাকা। কিশোর জেলেদের কাছ থেকে জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।
অভিযানগুলোতে আটক ৩১০জন জেলে কারাদণ্ড হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কিশোর জেলে আটক হয়েছে ৪৫০জন। তাদের কাছ থেকে ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় ।
হাইমচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, হাইমচর উপজেলা জাটকা বিচরণের মূল কেন্দ্র হিসেবে অভিযানও বেশী হয়েছে। ১৪৭টি অভিযান ও ৪২ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ১০৯জন জেলেকে আটক করা হয়। বিশেষ করে এ বছর অভিযানে আটক ২৮টি মাছ ধরার নৌকা নিলামে ১১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৫ টাকা বিক্রি করা হয়। জব্দকৃত কারেন্টজালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আর জাটকাগুলো অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ও বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি বলেন, সরকারের জাটকা রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিন ও রাতে মৎস্য বিভাগ, টাস্কফোর্স, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ কাজ করেছে। এর মধ্যে একশ্রেনীর জেলে নিরাপদ এলাকায় জাটকা নিধন করেছে। তারপরেও আমি মনে করি ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহ থাকবে এবং জেলেরা ইলিশ পাবে। ইতোমধ্যে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের ৩ মাসের বিজিএফ চাল ৪০ কেজি করে ১২০ কেজি বিতরণ করা হয়েছে। মে মাসের ৪০ কেজিও দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *