চাঁদপুরে ৩ দিনের ব্যবধানে একই থানার ৫ এসআইসহ ৯ পুলিশ করোনা আক্রান্ত

ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী :
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ৯ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জনই সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং ৪ জন কনস্টেবল রয়েছেন। এই পুলিশ সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্তের শিকার হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আলাদা করে হোটেলে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় চাঁদপুরে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কিছুটা আতংক বিরাজ করছে। বিশেষ করে একটি থানাতেই এতোজন সদস্যদের আক্রান্তের ঘটনা করোনা বিষয়ক টিমে কাজ করা ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্যদের ভাবিয়ে তুলছে। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগই মনোবল অটুট রেখে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম জেলার পরই এতো বেশি সংখ্যক পুলিশ আক্রান্ত হলো। এর মধ্যে গত ৭ মে প্রথম ৩ জন পজেটিভ আসে। এরপর ৯ মে ৫ জনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, একমাস আগেই পুলিশ লাইন থেকে শুরু করে প্রতিটি থানা এবং ফাঁড়িতে অবস্থান করে এমন পুলিশ সদস্যদের সবার বাসস্থান আমরা পুনর্বিন্যাস করেছি।
ব্যারাক গুলোর ফ্লোর প্লান পূনর্বিন্যাস করেছি, আগে যে রুমে ১২ জন ১৪ জন করে থাকত সেই সংখ্যা কমিয়ে সাত-আটজন এনেছি। এইজন্য থানার বিভিন্ন অফিসারদের রুম খালি করে সেখানে ব্যারাকে স্থাপন করেছি। মিটিং রুমকেও ফোর্সের থাকার ব্যারাক বানিয়েছি। এমনভাবে ব্যারাক বিন্যস্ত করেছি যেন এক হাত থেকে আরেক খাটের দূরত্ব মিনিমাম হয় ১০ ফুট।
তিনি আরও জানান, এর বাইরেও আমরা প্রতিটি থানার জন্যই কোন সদস্যের কারও করোনা পজেটিভ হলে সেই সদস্য যে রুমে থাকত সবাইকে কোয়ারেন্টাইন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবাসিক হোটেল রিজার্ভ রেখেছি। এর বাইরেও কোন সদস্য যদি করোনা আক্রান্ত হয়- তাহলে সেই সদস্য থানার অন্য কোন কোন সদস্যের সাথে মেলামেশা করেছে কিংবা কার কার সাথে কথা বলেছে এগুলো খুঁজে বের করে তাদের কেউ কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছি।
আর প্রতিনিয়ত আমরা বিভিন্ন ধাপে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কিংবা কখনো সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪/৫ আইটেমের সুরক্ষা সামগ্রী পাচ্ছি।
তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশকে বা চেক পোষ্টের পুলিশকে শত পরিবহন নিয়ন্ত্রন এবং লোকজনদের সাথে কথা বলতে হয় সংস্পর্শে আসতে হয়। একইভাবে টহল টিমের সদস্যরা পুরো উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে বাজারে যেখানেই লকডাউন অমান্য করছে, দোকানপাট খোলা রাখছে, নির্মাণ কাজ করছে, আড্ডাবাজি হচ্ছে, মারামারি হচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রে পুলিশ গিয়ে এই জিনিসগুলোকে হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে, জনগনের ক্লোজ কন্টাক্ট এ আসতে হচ্ছে, লোকজনের সাথে কথা বলতে হচ্ছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আসামিকে এরেস্ট করতে হচ্ছে, মারামারি ঠেকাতে শতশত লোকজনের মাঝখানে গিয়ে কথা বলতে হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।
আক্রান্তের কারণ হিসাবে এই কর্মকর্তা সুরক্ষা সামগ্রীর অপ্রতুলতা কিনা এ সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, না, এটি পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আমরা পাচ্ছি। সে ক্ষেত্রে পুলিশ সুরক্ষা পাচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে মানসম্মত ব্যারাক এবং আবাসন। তবে আমাদের এখানে আক্রান্তের বিষয়টি আমরা দেখছি। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, আমরা পুলিশ বাহিনী করোনা দমানোর জন্য মানুষকে সচেতন করার আক্রান্ত বা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষায় লড়াই করে যাচ্ছি। এটি করতে গিয়ে আমার পুলিশ ভাইরা ক’ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কিভাবে তারা আক্রান্ত হলেন, সেটি আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের খোঁজখবর আমরা রাখছি। কাজের জন্য যে ক্লাস্টারগুলো করা হয়েছে, তা অদলবদল করে দেয়া হতে পারে। আশা করি, যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা ইনশাল্লাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন। আর যেন কোন পুলিশ সদস্য কিংবা অন্য কেউ আক্রান্ত না হন, সেটির জন্য তিনি দোয়া চাইছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.