চাঁদপুরে ৬ হাজার মসজিদে ঈদ জামাত, মানতে হবে যত নির্দেশনা

ইব্রাহীম রনি :
চাঁদপুরে ঈদগা কিংবা খোলা মাঠে হচ্ছে না ঈদুল আযহার জামাত। বৃষ্টির আশংকা থাকায় জেলার স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার ঈদুল আযহার জামাত মসজিদে করার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে করে ২১ জুলাই জেলার ৮ উপজেলার অন্তত ছয় হাজার মসজিদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আযহার জামাত। কোন এলাকায় মুসল্লি বেশি হলে সেখানকার মসজিদে প্রয়োজনে একাধিক জামাত করতে হবে। কিন্তু কোনভাবেই সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। ঈদে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মনিটরিং করবে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানিয়েছেন, বৃষ্টির আশংকা থাকার কারণে ঈদুল আযহার জামাত মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে। অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি আরও জানান, মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ডস্যানিটাইজার তথা হাত ধোয়ার সাবান পানি রাখতে হবে। আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে এবং মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। মুসল্লিরা নিজ নিজ দায়িত্ব জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।
নামাজের আগে জীবানুনাশক দিয়ে পুরো মসজিদ পরিস্কার করতে হবে। মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। প্রত্যেক মুসল্লি নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে আসতে হবে এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে ঈদ জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

ইমামগণ খুৎবায় জঙ্গীবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবেন এবং আরবী খুৎতবার বিষয়বস্তু বাংলা তর্জমা মুসল্লীদের শুনাবেন। এক্ষেত্রে কোন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বক্তব্য দেয়া যাবে না। ইমামগণ করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে বিশেষ বয়ান দিবেন ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন। কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে জামাতে ইমামতির দায়িত্ব দেয়া যাবে না।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদগুলোতে নামাজ পড়তে হবে। এ বিষয়গুলো মনিটরিং করার জন্য সদর উপজেলায় ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে এবং প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও, এসি ল্যান্ডগণ দেখবেন।
চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগীর সেবায় নিয়োজিতদের মসজিদে আসা থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার ও কোরআন তেলাওয়াত করে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই মসজিদগুলোর দায়িত্বশীলদের সাথে কথা হয়েছে। এছাড়া আমরা ৮ হাজার প্রচারপত্র দিবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *