চাঁদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্স-ট্রাক-মাইক্রোবাসে চড়েই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, ভাড়া কয়েকগুণ

আশিক বিন রহিম :
করোনার সংক্রমণরোধে তৃতীয় বারের মতো সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে সারাদেশে লঞ্চ, ট্রেন ও বাসসহ সকল গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা কর্মজীবী মানুষেরা কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য হয়েই বিকল্প হিসেবে ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং মাইক্রোবাসকেই বেছে নিয়েছে। লঞ্চ, ট্রেন ও বাসসহ বড় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই অনেকটা গাদাগাদি করে এসব ছোট্ট পরিবহনগুলোতে চড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে ফিরছেন।
১৯ মে বুধবার সকাল থেকে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড, শহরের ওয়ারল্যাছ চৌরাস্তা, বাবুর হাট চৌরাস্তা থেকে মতলব রোড় হয়ে প্রায় শতাধিক মিনি ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং হাইস মাইক্রোবাস যাত্রী নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্য ছেড়ে গেছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি দূরে থাক উল্টো প্রতিটি গাড়িতেই ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী গাদাগাদি করে নিয়েছে চালকরা।
এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল ধরনের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস মুভমেন্ট পাস ছাড়া এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচল করার অনুমতি না থাকলেও চাঁদপুরে তা মানা হচ্ছে না। সরকারি বিধি নির্দেশ এবং স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই চাঁদপুর বাবুরহাট স্টান্ড থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, মাইক্রোবাসে ও প্রাইভেট কারে ঢাকায় হাজার হাজার যাত্রী নিচ্ছে। সেখানে পৌরসভার কর্তৃক ইজারার নিয়ম না মেনে প্রতি গাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া নেয়া হচ্চে বলে জানা যায়। এছাড়া এই স্ট্যান্ড থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও মিনি ট্রাক করে যাত্রী নেয়া হচ্ছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ঈদের ভিতর বাড়ি এসে পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হচ্ছে। লকডাউন চলাকালীন দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চ বন্ধ থাকায় সুযোগ নিয়ে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। জন প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৭শ’ থেকে ১হাজার টাকা।
বেশ কয়েকজন মাইক্রোবাস চালক জানান, লকডাউন এর পূর্বে ইজারাদার প্রতিনিধিরা চালকদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি যে টাকা নিতো, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি নিচ্ছে। এই কারণে তারাও যাত্রীদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে।
চাঁদপুর ট্রফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. জহিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে যাত্রী নেওয়ার কোন নির্দেশনা নেই। যারা এই কাজটি করছে, সম্পূর্ণ বেআইনি। ঈদের কারণে আমাদের লোকবল সংকট। আশা করি আগামীকাল থেকে একটি এম্বুলেন্সেও যাত্রী নিতে দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.