চাঁদপুর প্রতিদিনের লেখক সুহৃদ সম্মাননাপ্রাপ্তদের অনুভূতি

আশিক বিন রহীম :
চাঁদপুরের পাঠকপ্রিয় দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের এক দশকপূর্তি এবং একাদশ বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠান অন্ষ্ঠুানে ৮জন গুণি ব্যক্তিকে পত্রিকার লেখক সুহৃদ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২৮ নভেম্বর শনিবার চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠনে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ। তাঁরা হলেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ লোকমান হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী জেসমিন সুলতানা, প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর পরিচালক ওমর ফারুক দেওয়ান, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, দৈনিক যুগান্তরের ইনভেস্টিগেশন এডিটর, কবি ও লেখক মিজান মালিক, অপ্সরা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরা আক্তার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ঊর্ধ্বতন সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার হাবিব কাজল, ইকো লাইফস্টাইলের মালিকানা স্বত্বাধিকারী ফৌজিয়া আবেদীন।
সম্মাননা পেয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ লোকমান হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের মাধ্যে আমাদের উপকৃত করছেন। দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিন পত্রিকাটি সত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে এক যুগ পার করেছে। তাদের এই দীর্ঘ পথচলার সুন্দর দিনের আয়োজনে সম্মাননা দিয়ে আমাকে ঋণী করেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে এ কাজ করে যাচ্ছি। সুশিক্ষা নিশ্চিত না দিতে পারলে আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। যুবক ছেলেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এখনই সময়। তাদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর পরিচালক ওমর ফারুক দেওয়ান বলেন, আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করি। তাই তথ্য নিয়ে আমাকে লেখালেখি করতে হয়। দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিন আমার এই লেখালেখিকে অনুপ্রাণিত করতে যে সম্মান জানিয়েছে, তার জন্য আমি পত্রিকার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ রইলাম। আগামীতে আমি চাঁদপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে লিখার চেষ্টা করব।
তিনি আরো বলেন বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজে হাত দিয়েছে। এতে করে মূল ধারার সাংবাদিকরা আরো বেশি মূল্যায়িত হবে। চাঁদপুরের সাংবাদিকদের তালিকা দিলে আমি তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।
বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী জেসমিন সুলতানা, দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিন একযুগ পার করে একাদশ বর্ষে পদার্পণ করেছে। পত্রিকাটি এই দীর্ঘ পথ চলায় পাঠকদের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। চাঁদপুর প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে তারা আমাকে যে সম্মান জানিয়েছে আমি এজন্য আনন্দিত এবং গর্ববোধ করছি। আমি এই পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, চাঁদপুরে চাঁদপুরে কর্মরত অবস্থায় দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিন পত্রিকার সাথে আমার পরিচয়। এই পত্রিকাটি মানুষের সমস্যা পাশাপাশি সম্ভাবনার খবর পাঠকের কাছে তুলে ধরে। আমি অন্য জেলার মানুষ হলেও চাঁদপুরের সাথে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এখানে কাজ করার সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। আজকে চাঁদপুর প্রতিদিন আমাকে লেখালেখির জন্য যে সম্মান জানিয়েছে তাতে আমি নিজেকে গর্ববোধ করছি। আমি আশা করব চাঁদপুর প্রতিদিন তাদের সততা ধরে রেখে আগামী দিনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
অপ্সরা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরা আক্তার বলেন, বর্তমান সময়ে দশ বছরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একটি পত্রিকার টিকে থাকা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিন সেই কষ্টসাধ্য থেকে সফল করে এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন আমি নারীদের নিয়ে কাজ করি। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ সহ লেখালেখি সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। আমাকে সম্মাননা প্রদান করায় চাঁদপুর প্রতিদিন পরিবারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনারা যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করবেন।
দৈনিক যুগান্তরের ইনভেস্টিগেশন এডিটর, কবি ও লেখক মিজান মালিক বলেন, চাঁদপুর প্রতিদিন শুধু একটি দৈনিক পত্রিকার নামই নয়। এটি একটি ইনস্টিটিউট। আমি অন্তত তাই মনে করি। কারণ এই পত্রিকার সম্পাদক একজন পেশাদার সাংবাদিক। তিনি এক সময় ঢাকার বড় দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও একটু ভারি। তার হাতে অসংখ্য সংবাদ কর্মী তৈরি হয়েছে। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীকে। যিনি করোনার এই কঠিন আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যেও সাহস দেখিয়েছেন। পত্রিকার দশ বছর পূর্তিতে লেখক সুহৃদ সম্মাননা প্রদান করে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শুভ কামনা চাঁদপুর প্রতিদিন পরিবারের সবার জন্য।
তিনি আরো বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, ঢাকায় আমরা যারা কাজ করি তাদের চেয়ে মেধা মননে জেলা শহরের সাংবাদিকরা কম যোগ্য নন। বরং ক্ষেত্রবিশেষ বেশি বলতে হবে।কারন তাদের হতে হয় সবজান্তা। সব খবর তাদের কভার করতে হয়। খেলার রিপোর্ট ক্রাইম রিপোর্ট, রাজনৈতিক রিপোর্ট, সাধারণ ঘটনা কিংবা ইভেন্ট। সব থাকতে হয় নখদর্পণে। সে জন্য বলছি, সাংবাদিকতার শেকড় ওখানেই। তবে তাদের যোগ্য করে তোলার জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। আমি আশা করব, ভবিষ্যতে চাঁদপুর প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ বুনিয়াদি সাংবাদিকতা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করবে। এর মধ্য দিয়ে শেকড় সাংবাদিকতার ভীত আরো মজবুত হবে।
সব শেষে আমি চাঁদপুর প্রতিদিনের সাফল্য কামনা করছি। পত্রিকার সম্পাদক সাদা মনের মানুষ ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্টদের সুস্থতা কামনা করছি। তাদের মাধ্যমে দেশ বিদেশের মানুষ যেনো দ্রæত সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পায় সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ঊর্ধ্বতন সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার হাবিব কাজল, একজন লেখককে দায়বদ্ধ থাকে পাঠকের প্রতি। পাঠকের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা লেখকে উতসাহিত করে। শেইখ টির স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় প্রতিদিন আমাকে যে সম্মান জানিয়েছে এতে করে আমার কাজের গতিকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এজন্য আমি চাঁদপুর প্রতিদিন পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, লেখক এর কাজ হচ্ছে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা, যাতে করে মানুষ সচেতন হয় এবং সমাজ উপকৃত হয়। চাঁদপুর প্রতিদিন আগামীদিনে লেখকদের আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে। যাতে করে তারা আরো ভালো ভালো লেখা সৃষ্টি করতে পারে। চাঁদপুর প্রতিদিন প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠকদের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। চাঁদপুরের সেরা দৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। বিশেষ করে পত্রিকাটির যে ¯েøাগান ‘সময়ের নির্ভরশীল দৈনিক’ এই ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছে। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি আরো বলেন চাঁদপুর প্রতিদিনের সম্পাদক হিসেবে ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী একজন নির্ভরশীল সাংবাদিক। তিনি অনেক কষ্ট এবং পরিশ্রম করে পত্রিকাটিকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। বর্তমান সময় যেহেতু তথ্য প্রযুক্তির যুগ, তাই আমার অনুরোধ থাকবে- পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনকে আরো বেশি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি নজর দিবেন। যাতে করে চাঁদপুর প্রতিদিন দেশের গÐি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবেও সুনান বয়ে আনতে পারে।
ইকো লাইফস্টাইলের মালিকানা স্বত্বাধিকারী ফৌজিয়া আবেদীন বলেন, আজকের এই আয়োজনটি অনেক সুন্দর অনুষ্ঠন। এখানে অসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোগতা হওয়া সহজ না, তবে অসম্ভবও নয়। এ ক্ষেত্রে নারীদের পরিশ্রমী হতে হবে। চাঁদপুরের সর্বত্র নারীদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে আমার প্রতিষ্ঠানকে তিলে তিলে আমি তুলে এনেছি। আগামী তে আর বড় পরিসরে নিবো, ইনশাাল্লাহ।
ফৌজিয়া আবেদীন বলেন, আমাদের মানীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উদ্যোগতা হন। চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোগতা হয়ে অনেক নারীই সফল হয়ছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একজন নারী হয়েও পরিশ্রম এবং উদ্যমতার কারণে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন।
চাঁদপুর প্রতিদিন সম্পর্কে তিনি বলেন, চাঁদপুর প্রতিদিন যে সম্মান দিয়েছে, তা মনে রাখার মতো। এতে করে আমরা উৎসাহ পাই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *