চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীর স্রোত, লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা

ইব্রাহীম রনি :
চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছাড়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ১১টা পর্যন্ত চাঁদপুর টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে ৯টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে কয়েকটি লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। ৯টার পর চাঁদপুর ঘাটে বিপুল পরিমাণ যাত্রী ভীড় জমায়। তবে লঞ্চ সংকট এবং সময়সীমা শেষ হওয়ায় বিপুল সংখ্যক যাত্রী ঘাটে রয়ে গেছেন। ১১টার পর চাঁদপুর ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়া বন্ধ ঘোষণা দেয় বিআইডাবিøউটিএ।
চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা কায়সারুল ইসলাম বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী রাত থেকে লঞ্চ চলাচলের কথা থাকলেও যাত্রী না হওয়ায় রাতে চাঁদপুর থেকে কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে সকাল ৫টার পর থেকে ১১টা পর্যন্ত চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ৯টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। সকাল থেকে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। কিন্তু এরপর যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের কোনভাবেই বিধি-নিষেধ মানানো যায়নি। লঞ্চের ক্রাইসিস থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ ১১টায় সোনারতরী ২ লঞ্চটি ছেড়ে যায়। এরপর চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আর কোন লঞ্চ ছেড়ে যাবে না। একটি লঞ্চ আছে। তবে যে পরিমাণ যাত্রী ঘাটে আছে- এ লঞ্চটি চালালে সকল যাত্রীই তাতে উঠবে। এতে করে ওভারলোডেড হয়ে দুর্ঘটনার আশংকা তৈরি হবে। এ কারণে ১১টার পর আর কোন লঞ্চ না ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছি। তাছাড়া সরকারি নির্দেশনাও এরকমই।
তিনি বলেন, হঠাৎ লঞ্চ চলাচলের ঘোষণা আসায় সকল লঞ্চের স্টাফরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো না। যে কারণে সবক’টি লঞ্চ চালানো সম্ভব হয়নি।
ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীর চাপ থাকলে লঞ্চের সংখ্যা কম। যার কারণে অনেক যাত্রীকে ঘন্টার পর ঘন্টা লঞ্চঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। তবে অন্যবারের তুলনায় লঞ্চঘাটে এবার প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিআইডবিøউটিএ, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘাটে অবস্থান করেতে দেখা যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘাট থেকে প্রত্যেকটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিক কতৃপক্ষ। যদিও শেষ পর্যন্ত যাত্রীদেও স্বাস্থ্যবিধি মানানো যায়নি। লঞ্চ কম হওয়ায় কয়েকটি লঞ্চেই যাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে উঠেছে।
এর আগে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শুধু একদিনের জন্য লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ সময় লঞ্চগুলো গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিবহনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে সুবিধাজনক সময়ে স্ব স্ব ঘাট থেকে লঞ্চগুলো ছাড়বে। এ বিষয়ে মালিকরাই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। রবিবার (১ আগস্ট) বেলা ১২টার মধ্যে যেন সদরঘাটে এসে পৌঁছাতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিইে লঞ্চগুলো ছাড়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.