চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাটে আটকা চার শতাধিক গাড়ি

আশিক বিন রহিম :
ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুর- শরীয়তপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।এতে নদীর দুই পারের অপেক্ষায় পাড়ে আটকা পড়েছে প্রায় চার শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাটে গিয়ে ভারী যানবাহনের এই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। হরিণা ঘাট থেকে চান্দ্রাবাজার চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক গাড়ি অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা যায়। এছাড়া মেঘনার পশ্চিম পাড়ের শরিয়তপুর ফেরি ঘাটে অটকা আছে আছে আরো প্রায় ১ শ’ যানবাহন।
মেঘনার কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে এ রুটে বেশ কয়েকবার ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলে একদিনের মধ্যেই এ দৃশ্য পাল্টে যাবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
ট্রাক চালক হাবিবুর রহমান বলেন, চারদিন ধরে চাঁদপুর ঘাটে আটকে আছি। ভাড়ায় বহনকৃত মালামাল নিয়ে কবে পৌঁছতে পারবো তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছি। একই কথা জানান, ঝিনাইদহ যাত্রা করা ট্রাক চালক মফিজুল। তিনি বলেন, ৫ দিন ধরে এখানে আটকা আছি। বেকার বসে থেকে প্রতিদিন খরচ বাড়ছে। কবে নাগাদ মালামাল নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো জানি না। আরেক ট্রাক চালক সিরাজ মিয়া বলেন, ঘাটে স্থানীয় কিছু অসাধু লোক টাকার মাধ্যমে সিরিয়াল আগপিছ করছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘণকুয়াশা বেড়ে যাওয়ায় সোমবার রাত ৯ টা থেকে ফেরী চলাচল বন্ধ রেখেছিলো ঘাট কর্তৃপক্ষ। পরে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় দিকে আবারো ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু দিন শেষে রাত ১০ টায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নৌ-পথে দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে আবারো ফেরী চলাচল বন্ধ করা হয়। ফেরি চলাচলে এমন বিঘ্নতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসির চাঁদপুর হরিনাঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ফয়সাল আলম চৌধুরী জানান, বর্তমানে হরিণা ফেরি ঘাটে ৩ শতাধিক গাড়ি আটকা আছে। আর শরিয়তপুর ঘাটে আটকা আছে ১শ’। কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ার কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্নতা দেখা দিয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব যখন কমলে, তখন পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। গত ১ সপ্তাহ ধরে এমনটা চলছে। কুয়াশা ছাড়া দুই পাড়ের ঘাটে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এখনো মোট ৬টি ফেরি চলাচল করছে। স্বাভাবিক ভাবে ২৪ ঘন্ট ফেরি চলতে পারলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *