নবজাতকের শরীরে টিউমার, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন জেলা আ.লীগ সম্পাদক

 

আশিক বিন রহিম :
শরীরে এক বিরল টিউমার বয়ে জন্মনেয়া শিশুকে ফেলে গেছেন গর্ভধারিণী মা। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় শিশুটির অসহায় দরিদ্র পিতা বাকরুদ্ধ। এ অবস্থায় চাচা ও ফুফুরা নিষ্পাপ শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল এবং বিভিন্ন মানুষের দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন। অবশেষে ভাগ্যহত নবজাতক শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিলেন চাঁদপুর জেলা আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল।

তিনি শিশুটির পরিবারের সাথে কথা বলে তার অপারেশন সহ সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারি রহমান বাদলকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। শনিবার ২৮ মে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে শিশুটির বিরল টিউমারের অপারেশন হবার কথা রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। আমাদের জন্মমৃত্যুর মালিক আল্লাহ। তিনি আমাদের কার ভাগ্যে কি রেখেছেন সেটি আগাম কেউ বলতে পারবে না। বিরল টিউমার নিয়ে জন্মনেয়া শিশুটির পরিবারের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে সাথে সাথে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। শিশুটির উন্নত চিকিৎসাসহ অপারেশনের সকল খরচ আমি বহন করবো বলে জানিয়েছি। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল কুমিল্লার একটি হাসপাতালে তার অপারেশন হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ মে চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ গুনরাজদী এলাকার মিলন গাজি ও স্ত্রী তাসলিমা বেগম দম্পতির কোলজুড়ে কিছুদিন আগে বড় একটি টিউমার নিয়ে শিশুটির জন্ম হয়। চাঁদপুর মা ও শিশু হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্মনেয়া শিশুটির নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। কিন্তু জন্মের ১৪ দিন পর মিলন গাজীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার নবজাতককে ফেলে বাবার বাড়ি চলে যায়।

শিশুর বড় চাচা সুমন গাজী জানান, তার ছোট ভাই মিলন গাজী একজন হতদরিদ্র দিনমজুর। ছোট ভাইয়ে প্রথম সন্তান মোহাম্মদ। জন্মের পর পরই চিকিৎসকরা শিশুর পেটের সাথে বিরল প্রজাতির বড় টিউমারটি দেখতে পান। এই টিউমারটি দেখে শিশুটির গর্ভধারিনী মা তাকে হাসপাতালে রেখেই তার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে তারা তাকে বাঁচানোর চেষ্টায় সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান।

সুমন গাজী আরো জানান, ঢাকা শিশু হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন এটি ক্যাস্ট্রোলা টিউমার। ভালো এবং উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার অপারেশন করালে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব। তবে এতে করে অনেক অর্থের প্রয়োজন। শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে ওই হাসপাতলে শিশুটিকে তিন মাস রেখে চিকিৎসা করানোর পর তার অপারেশন করানো যাবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসার ব্যায় যোগাতে না পারায় তারা শিশুটিকে পুনরায় চাঁদপুরে নিয়ে আসেন। এখানে তারা শিশুটিকে নিয়ে কখনো চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, কখনো বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারপ্রান্তে ঘুরে বেড়ান।

এ অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসায় মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন চাঁদপুর জেলা আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল। সম্প্রতিক সময়ে মহামারি করোনার দুর্যোগে তিনি কয়েকটি কাজ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যার মধ্যে ঘরহীন এক অন্ধ নারীকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া, পথে পড়ে থাকা মৃত্যুপথযাত্রী এক ভবঘুরে নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া, অসংখ্য দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারকে গোপনে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া।

চাঁদপুরের চাঁদপুর জেলা আওয়াম লীগের দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল এর এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য : শিশুটির পরিবারকে কেউ আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলে তাদের ০১৮২৫১৭৫৪১১ এই বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানো এবং যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন অসহায় পরিবারটি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *