পানিতে হাইমচরবাসীর দুর্দশা : বেড়িবাঁধে ৩ বছরেও হয়নি স্লুইচ গেইট

হাইমচর প্রতিনিধি :
বানের পানি এখন হাইমচরবাসীর দুর্দশা। গতকাল পানি কিছুটা কমলেও এখনো উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে পানি আটকা আছে। এদিকে বেড়িবাঁধের উপরে থাকা ব্রীজে স্লুইস গেট না থাকায় জোয়ারের পানিতে মৎস্য খামার, পানের বোরজ, ফসলী জমিনসহ মানুষজনের ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে শতকোটি টাকার সম্পদ। দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। উপজেলা পরিষদ থেকে স্লুইচ গেটের জন্য আবেদন করেও তিন বছরে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এছাড়া ব্রীজ দুটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মানের কাজেও হচ্ছে ডিলেঢালা। তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো হচ্ছে না বাঁধের কাজ। লোক দেখানো কাজ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী।
মহজমপুর এলাকাবাসী জানান, এ ব্রীজের নিছ দিয়ে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার একমাত্র জায়গা। এ খাল দিয়ে পানি এসে ব্রীজের নিচ দিয়ে বৃষ্টির পানি নদীতে চলে যায়। আবার জোয়ারের পানি এসে বেড়িবাঁধের ভিতরের গ্রাম গুলো প্লাবিত হয়। তাই এ ব্রীজের মুখে প্রয়োজন ছিল স্লুইস গেট। স্লুইস গেট না দিয়ে এখানে পানি উঠা নামার পথ একবারেই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এতে বৃষ্টি হলে পানি নামার আর কোন ব্যবস্থা রইলো না। আমরা অতিদ্রুত এখানে স্লুইস গেটের ব্যবস্থা করার জন্য জোরদাবী জানাচ্ছি।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় সিআইপি বাঁধ নির্মাণ কাজের পরিদর্শনে যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতির কারণে হাইমচরবাসীর আজকের এ দুর্দশা। তিন বছর পূর্বে সিআইপি বেড়িবাঁধের ভিতরে দুইটি খালের মুখে স্লুইস গেইট দেয়ার জন্য আবেদন করার পরেও আজও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। যার কারণে জোয়ারের পানি খালের ভিতরে দিয়ে প্রবেশ করে হাইমচরের মানুষজনের শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্রীজের নিছ দিয়ে খালের মধ্য দিয়ে নেয়াখালি, ফরিদগঞ্জ, লক্ষীপুর ও চাঁদপুরেও রয়েছে বন্যার আশংকা। এত গুরুরুত্বপূর্ন এ বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এত ঢিলেঢালা কাজের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আজ তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ব্রীজের মুখ বন্ধ করার এ বাঁধ দিতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিনি এ ব্রীজে স্লুইস গেট না হওয়া পর্যন্ত হাইমচরবাসীর দুর্দশা কমবেনা বলে মনে করছেন। তাই তিনি অতিদ্রুত ব্রীজ দুটিতে স্লুইস গেটের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের বরাদ্দ না থাকায় আমরা সঠিক সময়ে কাজ করতে পারি না। আমাদের যা বরাদ্দ আসে আমরা তাই করি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এ ব্রীজের মুখগুলো বন্ধ করার জন্য। স্লুইস গেটের জন্য আমরা আবেদন করেছি, অনুমোদন হলেই স্লুইস গেইট করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *