পুরাণবাজারে মেঘনার ভাঙন : জিও ব্যাগ নয়, টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি

আশিক বিন রহিম :
মেঘনার প্রবল স্রোতে চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় আবারও মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ১২ আগস্ট বুধবার রাত ১০টায় বাঁধসহ সড়কের প্রায় ২৫ মিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। মাত্র কয়েক ঘন্টার ভাঙনে সড়কের বেশকিছু অংশসহ একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে চলে যায়। বর্তমানে প্রায় ৭০ মিটার এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় গ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছন্ন রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই আতংকের মধ্যে রয়েছেন।
১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরাণবাজারের পুরোনো ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে হরিসভা মন্দিরে যেতে সড়কটি যেখানে মোড় দিয়েছে, মূলত সেই মোড়েই ৭০ মিটার জায়গা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর পূর্বে শহররক্ষা বাঁধের ওই স্থানে যে ব্লক ও বালি ভর্তি জিও ভ্যাগ ফেলা হয়েছিলো তা নদীতে দেবে গেছে। বর্তমানে ওই অংশ ভাঙন অব্যহত রয়েছে। তবে ভাঙনের খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষনিক বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছেন। নতুন করে আরও ব্যাগ বালু ভর্তি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে বার বার সংস্কার নয়, অতিদ্রুত নতুন করে স্থায়ী ও শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে, যে কোনো মুহূর্তে জেলার এই প্রধান বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি মেঘনায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চৌধুরী, লিটন দে, বিশ্বনাথ বণিক জানান, গত বছর থেকেই ভাঙন এলাকাটি খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই সময় মন্ত্রীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছেন। ১১শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে স্থায়ী বাধ হবে বলে আশ্বাস দিলেও এখনও তা করা হচ্ছে না। যখন ভাঙন দেখা দেয় তখন কিছু বালু ভর্তি ব্যাগ ফেলানো হয়, আবার ভাঙন কিছুটা কমলে আর কোন কাজ হয় না। গত ২০ দিন আগেও একবার ভাঙন দেখা দিয়েছিলো। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড যে স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ র্নিধারণ করে সেখানেই এখন ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন জানান, ভাঙন প্রতিরোধে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাত থেকেই শ্রমিক কাজ করতে শুরু করেছেন। তবে এখানে পানির গভীরতা প্রায় ৪৫ ফুট। তারপরেও কাজ বন্ধ নেই।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, বুধবার রাত ১০টায় পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় ভয়াবহ ফাঁটল দেখা যায়। এ সময় শহর রক্ষা বাঁধের বেশকিছু ব্লক নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ২৫ মিটার এলাকাজুড়ে ফাঁটল দেখা দেয়ায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। মেঘনা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্ট ঘূর্ণিপাকে হরিসভাসহ পুরানবাজার ব্যবসায়িক এলাকাটি ঝুঁকিতে রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *