পুরাণবাজারে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

পুরাণবাজারে ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে হত্যা মামলা এবং মাদক ও চুরির দায়ে গ্রেফতারকৃত আসামীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মাদকের অন্যতম স্বর্গরাজ্য বনে যাওয়া চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারের মাদক কারবারিরা সম্প্রতিক সময়ের মহামারি করোনা পরিস্থিতিকে পূঁজি করে আরও বেশি বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলশ্রুতিতে ব্যবসায়িক এই এলাকাটিতে গত কয়েক মাস ধরে মাদক বিক্রয় ও সেবন বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাদককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং চুরি-ছিনতাই। এতেই শেষ নয়, এই মাদককে কেন্দ্র করে ঘটেছে হত্যার ঘটনাও। মাদকের টাকা ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ১ নং ওয়ার্ডের জহির খান ও ২ নং ওয়ার্ডের রাসেল পাটওয়ারী নামে দুই যুবলী নেতার সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। যার সমাপ্ত হয় গত ৩০ জুন নিরিহ পথচারী শামিম গাজী (২৪) হত্যার মধ্য দিয়ে। কয়েক ঘন্টার বিরতিহীন সংঘর্ষে বহু বাড়িঘর-দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ট ফাঁকা গুলি করে। পরের দিন শামিম গাজীর পিতা তাজুল ইসলাম গাজী বাদি হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ১৫৯ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই ঘটনায় পুলিশও ৫০ নাম উল্লেখসহ আড়াইশ’ জনের বিরুদ্ধে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
এদিকে দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ আসামীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মাসুদের নেতৃত্বে গত ১ সপ্তাহের সাঁড়াশী অভিযানে ৬ মাদকসেবী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে। তবে দুটি মামলার প্রধান আসামীদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুরানবাজার দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ বাদী মামলার গ্রেফতারকৃত এজহারভুক্ত আসামিরা হলেন, ৬নং আসামী ইয়াছিন মিজি (২৮) ও ৮নং আসামী হুমায়ুন ফরাজী (৩০)সহ অজ্ঞাত আসামী খোকন গাজী (৩০), শরীফ ছৈয়াল (২২), সোহাগ পাটওয়ারী (২৫) ও সুমন ফকির (২৭) আটক করা হয়, খালেক খান (৫৫), ফজলা (২০), কালু কেরানি (৪০)।
এছাড়া মাদক সেবন ও ছিঁচকে চুরির দায়ে আটক অন্য আসামীরা হলেন, সাব্বির (২৬) ও রাজীব (২৪)। গত ১৩ জুলাই সোমবার রাতে উপজেলার কলেজ রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। ১২ জুলাই রাত বারোটার সময় পুরাণবাজার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে
সাইফুল সর্দার (২১) ও সাব্বির (২০) কে দ আটক করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মাসুদ জানান, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *