বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা পৃথিবীতে বিরল

ইব্রাহীম রনি :
চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিয়াউর রহমান বলেছেন, ভাস্কর্য, শিল্পকর্ম, চিত্রশিল্প, ক্যালিওগ্রাফি বা ফটোগ্রাফ- এগুলো সর্বজন স্বীকৃত। শিল্প-সাহিত্য এগুলো ইতিহাসকে ধারণ করে। শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে আমরা ইতিহাসকে জানতে পারি।
আজকে আমরা যে অবস্থানে এসেছি তা শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমেই জানতে পারি। পৃথিবীর সবদেশেই ভাস্কর্য শিল্পকার্য আছে। ভাস্কর্য ইতিহাসের অনেক ঐতিহ্য ধারণ করে। নতুন করে এটি সামনে নিয়ে এসেছে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ হলেও আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি। আমরা জাতির পিতাকে ভালবাসি। তাই জাতির পিতার যেন কোনরকম অবমাননা না হয় সে বিষয়ে আমাদের সোচ্চার থাকা।
আমি আশা করবো, আমরা সবাই জাতির পিতার অসম্মান বাংলাদেশে হতে দিবো না। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সুখী এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় সেটি করে যেতে পারেননি। তবে তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা হাল ধরেছেন। তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় নিজস্ব অর্থায়নে সবচে বড় প্রকল্প দুঃসাহসি প্রকল্প পদ্মাসেতু আজকে দৃশ্যমাণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা সবাই কাজ করবো। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো। জাতির পিতার সম্মান যেন কখনো ক্ষুন্ন না করে কোন গোষ্ঠি সে বিষয়ে সোচ্চার থাকবো।
কুষ্টিয়া জেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান’ এই স্লোগানে চাঁদপুর জেলায় কর্মরত জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভায় এ কথাগুলো বলেন তিনি।
জেলা ও দায়রা জজ বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস- এটি বাঙালি জাতির অত্যন্ত আনন্দের মাস। আবার পরিতাপেরও মাস। কারণ, বিজয়ের প্রাক্কালেই ১৪ ডিসেম্বর আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হারিয়েছি। আসলে বাঙালি জাতীর যে ইতিহাস সে ইতিহাসে সবচে বড় অর্জন হলো স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা যিনি এনে দিয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা জানি বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা পৃথিবীতে বিরল। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি বাংলার মানুষকে যতটা ভালোবেসেছেন বাঙালি জাতিকে আর কেউ ততোটা ভালোবাসেননি। তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশাতেই বলে গেছেন- তার সবচে শক্তি হলো তিনি বাংলার মানুষকে ভালোবাসেন। আর তার বড় দুর্বলতাও হচ্ছে- তিনি বাংলার মানুষকে বড়বেশি ভালোবাসেন। অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, এই যে ভালোবাসার মানুষটি আমাদের জাতির পিতাকে ১৫ আগস্টে দেশি-বিদেশী চক্র মিলে কিছু কুলাঙ্গার নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে আসলে বাংলাদেশকে একটি গভীর অন্ধকারের দিকে নিমর্জিত হয়। আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা সবকিছুই নিঃশেষ হতে থাকে। তবে আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে প্রাণে বেচে যান।
তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তার নেতৃত্বে দেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিচার বিভাগ ৭৫-এর খুনিদের বিচারের আওতায় আনে এবং ফাসির রায় কার্যকর করা হয়।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের অহংকার আমাদের গৌরব সংবিধান স্বীকৃত আমাদের জাতির পিতাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কিছু দুস্কৃতিকারী এ অপরাধ সংগঠন করেছে। আমরা চাই- যারা এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। শুধু তারাই নয়, তাদের যারা পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, তাদের চেতনাই আসলে অন্য রকম। তারা যে পরাজিত শক্তি এটি তারা ভুলতে পারেনি। স্বাধীনতার চেতনায় তারা বিশ্বাস করতে পারে না। এ থেকেই তারা আমাদের দেশকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানসহ জেলার সকলস্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *