বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁদপুরে বর্ষবরণ

বাংলা নববর্ষ আমাদের বাঙালি চেতনায় মননে সবখানে : জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত দু’বছরের ঘরবন্দি জীবন কাটিয়ে এবছর বাঙালি ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বৈশাখ উদযাপন উদযাপনে মেতেছিল। প্রত্যুষে আনন্দ উদযাপনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বের হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। পুরুষরা পাজামা-পাঞ্জাবি, নারীরা শাড়ি আর উজ্জ্বল পোশাকে শিশুদের হাতে বিভিন্ন প্লেকার্ড নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টায় হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে সবার মঙ্গল কামনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে এসে শেষ হয়। ডাকাতিয়ার পাড়ে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চে চাঁদপুরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে শিল্পীরা লোকজ, দেশাত্ববোধক, লালন ভাটিয়ালী গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। সেখানে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা বাঙালি, সুদীর্ঘ বছর ধরে আমাদের চেতনায়, আমাদের সংস্কৃতিতে মিশে আছে বাংলা নববর্ষ বরণ । এই বাংলা নববর্ষ আমাদের সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবে আমরা সব ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করি। এটা আমাদের চেতনা মননে ও সংস্কৃতিতে আছে। বাঙালির এ দিনে আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিকসহ নানা কর্মকান্ডসহ উদযাপন করি।’ তিনি বলেন, গত ২ বছর আমরা মহামারি করোনার কারনে উৎসবটি স্বতস্ফুর্তভাবে করতে পারিনি। কিন্তু এবার আমরা পেরেছি করোনা কমে আসার কারণে। তিনি বলেন, আমরা আমরা আজকের দিনে এটুকু চাই, সবাই মিলে আমাদের সোনার বাংলাদেশকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তুলি। অসা¤প্রদায়িক চেতনাকে লালন করে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। কারণ, এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের ভূমি। তিনি বলেন, পবিত্র রমজানের কারণে এবং রমজানের পবিত্রতা যেন নষ্ট না হয়, যার কারণে আমরা অনুষ্ঠানের সময়ও সংক্ষিপ্ত করে এনেছি। জেলা প্রশাসক বলেন, একথা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, দেশের সকল উন্নয়নে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
এদিকে ডাকাতিয়ার পাড়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজারো বিভিন্ন বয়সের মানুষ যোগ দিয়েছেন। সেখানে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় মানুষ ভিড় জমান।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.