বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

চাঁদপুর প্রতিদিন ডেস্ক :
এমপিভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তর উঠিয়ে দিলেও বিধি অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কারও চাকরি যাবে না, বঞ্চিত হবেন না। চালু করা শর্ট কোর্স পড়াবেন বা প্রশিক্ষণ দেবেন তারা। আন্তর্জাতিক ‘শিক্ষা দিবস ২০২১’ উপলক্ষে রবিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘রিকভার অ্যান্ড রেভিটালাইজ এডুকেশন ফর দ্য কোভিড-১৯ জেনারেশন’ শীর্ষক আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান।
রাজধানীর পলাশীতে শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ভবনে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন কার্যালয়ে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে এতে ভার্চুয়ালি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরিও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম এবং ইউনেস্কো রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশের হেড অব অফিস মিজ বিয়াট্রিস কালদুন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একবারেই ঢেলে সাজাবার একটি চেষ্টা চলছে। আমি আশা করি সকলের সহযোগিতা পাবো। আর কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স নিয়ে কথা উঠেছে, এটি নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে কাজ করছি। কলেজগুলোর বিষয়ে আসলে আমরা জনপ্রতিনিধিরাই দায়ী। এলাকার মানুষদের চাপে আমরা কলেজগুলোয় অনার্স-মাস্টার্স খুলি। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স স্তরের নন, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীও অনার্স-মাস্টার্সের নয়। সবার জন্য তো অনার্সের প্রয়োজন নেই। এতো অনার্স- মাস্টার্স করে তারপর তারা কী করবেন? কাজেই যে দক্ষতাগুলো প্রয়োজন সেগুলো পাচ্ছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করায় ২০১৯ সাল থেকেই অনার্স-মাস্টার্স স্তরের অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যেসব জায়গায় (বেসরকারি কলেজে) অনার্স-মাস্টার্স রয়েছে পর্যায়ক্রমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কলেজগুলোয় বিভিন্ন ধরনের শর্ট কোর্স পড়ানো হবে। কলেজগুলো থেকে যারা বিএ, বিএসসি ও বি-কম পাস করবেন তাদের বিভিন্ন ধরনের শর্ট কোর্সগুলো যা থাকবে সেগুলোই শিক্ষকরা (অনার্স-মাস্টার্স স্তরের) পড়াবেন। কাজেই অনার্স-মাস্টার্স স্তরের কোনও শিক্ষক চাকরি যাওয়ার ভয় পাবেন না। যারা ইচ্ছুক হবেন তাদের আমরা আবার প্রশিক্ষণ দেবো। তারা বিভিন্ন শর্ট কোর্স যেগুলো হবে সেগুলো পড়াবেন।’
এর আগে রবিবার (২৪ জানুয়ারি) সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিদেশে কাজ করার মতো বহু শর্ট কোর্স রয়েছে, এই শিক্ষকরাই (অনার্স-মাস্টার্স স্তর) প্রশিক্ষণ নিয়ে সেগুলোই পড়াবেন। তাদের চাকরি হারাবার প্রয়োজন নেই। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। ’
সম্প্রতি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তর উঠিয়ে দেওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *