মতলব উত্তরে ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মতলব উত্তর উপজেলার ১২নং ফরাজীকান্দি পরিষদের ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা শাওন এর বিরুদ্ধে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারীর উপর কিশোর গ্যাং দ্বারা অতর্কিত হামলা করা কেন্দ্র উদ্যোক্তা শাওন। গত ২৫ মে দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মেম্বার শফিকুল ইসলাম চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। অনতিবিলম্বে শাওনের প্রত্যাহার করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে গত ২৬ মে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ও গত ২৭ মে আমিরাবাজ বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
আহত মেম্বার সফিকুল ইসলাম, ঘটনার দিন দুপুরে ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ শফিকুল ইসলাম উদ্যোক্তা শাওনকে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে ৩০০/৪০০টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করি। পরে ইউপি মেম্বার কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসলে কিশোর গ্যাং দ্বারা শাওন মেম্বারকে অতর্কিত হামলা চালায়। শফিকুল ইসলামের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী দৌড়ে এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে উত্তর উপজেলার মরাধন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এলাকার ইন্দুরিয়া গ্রামের শেখ সামছু মিয়ার ছেলে নূর আলম শেখ (২২) ও বালুচর গ্রামের মৃত হাসমত আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন, নুরু সওদাগরের ছেলে স্বপন সওদাগর ও মহিষমারী গ্রামের মোঃ মালেক প্রধানের ছেলে আলমগীর জানায়, তাদের নিজেদের ও ছেলে মেয়েদের জন্ম নিবন্ধন করতে উদ্যোক্তা শাওন নিবন্ধন প্রতি ৩০০/৪০০ টাকা নেয়। এছাড়াও তাদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও রূঢ় আচরণ করে। আমিরাবাজ বাজারের ব্যবসায়ী দক্ষিণ রামপুর গ্রামের আলী রাজা গাজী ছেলে সেলিম জানায়, শাওন এলাকার উচ্ছৃংখল ছেলে। সে এলাকায় কিশোর গ্যাং লালন করে। এলাকাবাসী তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। অতি সত্ত্বর শাওন গংদের প্রত্যাহার করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছে এলাকাবাসী। সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুল হক সরকারে ছেলে মাইনুল হক সরকার জানায়, ২০১০সালে থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ২০১৫সালে হজ্বে যাওয়ার সময় আমার ছাত্র শাওনকে তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দায়িত্ব দিয়ে যাই। হজ্ব থেকে ফিরে আসলে সে আমাকে গালমন্দ করে, আমার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি। সরকারি কিছু মালামালও বিক্রি করে দেয়। ১২নং ফরাজীকান্দি পরিষদের ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা শাওন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গতকাল ২৭ মে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *