মতলব উত্তরে লক্কর-ঝক্কর কাঠেরপুল : ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত

কামরুজ্জামান হারুন :
মতলব উত্তরের এক অবহেলিত জনপদ ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। ইউনিয়নের লোকসংখ্যা ও বেশি।
উপজেলা সদরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম কোণে এই ইউনিয়নটি অবস্থিত। ইউনিয়নের একটি অবহেলিত জনপদের নাম ভাষানচর। ভাষানচর খালের উপর একটি বিশাল কাঠেরপুল রয়েছে। যেটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং লক্কর-ঝক্কর। এটি ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। যেটি ছোট হলদিয়া ভাষানচর নামে পরিচিত। ভাষানচর  বিলে ৫০ একর জমি রয়েছে। যেখানে কৃষকের সোনালী ফসল ফলে। এ ভাষানচর বিলে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বিশাল কাঠেরপুল। যেটি প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ বছর আগে সরকারিভাবে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওই কাঠের পুলের  নাজুক অবস্থা। একেবারেই লক্কর-ঝক্কর পুল।
প্রতিদিন শতশত লোক কাঠেরপুল দিয়ে যাতায়াত করে। বিশেষ করে সরদারকান্দি, ছোট হলদিয়া, ভাষানচর ও উদ্দমদী গ্রামের লোকজন এ পুল দিয়ে যাতায়াত করে।
কাঠেরপুলটি লক্কর-ঝক্কর হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করে। এতে প্রায়ই পুলের পাটাতন ভেঙে পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পুলের বেহাল দশা। পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড় যেতে বুক ধরফর করে ওঠে। কাঠের পুলের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহিলা লীগ নেত্রী তাসলিমা আক্তার আখির বাড়ি। তার সাথে আলাপকালে বলেন, আমার জন্মের আগে এ খালের ওপর কাঠের পুল তৈরি হয়েছে। লক্কর-ঝক্কও কাঠেরপুল হওয়াতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, চারটি গ্রামের লোকজন এ পুল দিয়ে যাতায়াত করে। এ পুল দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে লোকজন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। এমনকি তিনি নিজেও একদিন পুল থেকে পানিতে পড়ে যান বলে জানান।
ছোট হলদিয়া গ্রামের সাদেক আলী বেপারী (৬০) জানান, প্রায় পঁচিশ বছর আগে প্রাক্তণ চেয়ারম্যান সরকারিভাবে ভাষানচর খালের উপর কাঠেরপুল তৈরি করে দেন। সে থেকে মেরামতের আর কোনো খোঁজ খবর নেই।
একই গ্রামের শওকত আলী প্রধান(৫৮) ও আলী মিয়া প্রধান( ৫৭) জানান, ভাসানচর বিলে ৫০ একর জমির ফসল ঘরে তুলতে  এ কাঠের পুল ব্যবহার করতে হয়।  তারা বলেন, পুলের কাঠ ভাঙা ও ফাঁকা থাকায় প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
মেঘনা-ধনাগোদা পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের এবং ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরকার আলাউদ্দিন বলেন, আমি সরজমিনে কাঠেরপুল পরিদর্শন করেছি। এ স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. মোঃ নুরুল আমিন রুহুল মহোদয়ের সাথে আলাপ করে ব্রিজের প্রয়োজনীয়তার কথা জানাবো।
চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. মোঃ নুরুল আমিন রুহুল বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত আছি। আশা করি আগষ্টে বরাদ্দ আসলে এ খালের ওপর ব্রিজের ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *