মেয়র-কাউন্সিলরদের বিজয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী শুভেচ্ছা জানালেও এখনো দূরে সরে জেলা আ’লীগ সভাপতি-সম্পাদক!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন শেষ হলো ১০ অক্টোবর। ইতিমধ্যে নৌকার একক মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল এবং সংরক্ষিত ৫ মহিলাা কাউন্সিলরসহ ১৫ ওয়ার্ডের বিজয়ী মোট ২০ কাউন্সিলরদের সরকারি গেজেটও গত ১৫ অক্টোবর প্রকাশ হয়ে গেছে। অপেক্ষা এখন শপথের। বিজয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। নৌকা নিয়ে বিপুল ভোটে মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন জিল্লুর রহমান জুয়েল। মেয়রসহ ২০ টি পদেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। তাদের এই জয়ের পেছনে প্রথম শক্তি হিসাবে কাজ করেছে আওয়ামী পরিবারের শত শত নেতাকর্মী, সমর্থকরা। এই মহামারি করোনাকালে তারা অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচার-প্রচারনা চালিয়েছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরো বেড়িয়েছেন। পোস্টার-ব্যানার উঠোন বৈঠক পথসভাসহ নানা প্রচারেন তারা ছিলেন নিবেদিত। ছাত্রলীগ, সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সাবেক যুবলীগ, কৃষক লীগ শ্রমিকলীগ, মহিলা লীগ, মহিলা যুব আওয়ামী লীগসহ এবং ফাদার সংগঠন জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সমর্থক মেয়র ও তাদের কাউন্সিলরদের বিজয়ে একট্রা হয়ে কাজ করতে দেখা গেছে এবং তারা তাদের কাংক্ষিত  বিজয় নিয়ে এসেছে দলের। বিজয়ের পর তারা শুধু থেমে থাকেননি নবনির্বাচিত মেয়রকে প্রানঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন, ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিটির আহবায়ক জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা: জে আর ওয়াদুদের বলিষ্ঠ দিক নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই ছিলো গুছানো। নির্বাচনের সময় নিরলস পরিশ্রম করার পর বিজয়ী মেয়রকে যারা তাৎক্ষণিক কিংবা আগে পরে ফুলেল শুভেচ্ছা বা এমনিতেই শুভেচ্ছা দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতারা হলেন- জেলা সহসভাপতি ইউসুফ গাজী, সন্তোষ সাহা, জেলা ও উপজলার সিনিয়র পদবী নেতা, তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, এড. মজিবুর রহমান, অজয় ভৌমিক, এড বিনয় ভূষন মজুমদার, অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন, মাসুদ আলম মিন্টন, এড. রনজিত রায় চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম বাবুল, জাহিদুল ইসলাম রোমান, মাহফুজুর রহমান টুটুল, আইয়ুব আলী বেপারী, আলী আরশাদ মিজি, মাহাবুবু রহমান পাটওয়ারী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল আহসান টিটো, অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন, হাসান ইমাম বাদশা, জাফর ইকবাল মুন্না, এড. সায়েদুল ইসলাম বাবু, অ্যাড. সাইফুদ্দিন বাবু, জুয়েল ঢালী, সাজেদা কাকন, লিলি ইসলাম, রেজাউর রহমান রিজু, খালেদুর রব মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সম্পাদকসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা এবং কর্মি। যাদের নামগুলো অনেকেই জানেন এবং পদপদবীও। বিশেষ করে নব মেয়র নিজেও তা বলতে পারবেন। কিন্তু এতো শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন প্রাপ্তির মাঝেও আওয়ামী পরিবার যাদের পায়নি, অথচ অনুভব করেছেন তাদের, তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালকে। বর্ষীয়ান এই দুই নেতা নির্বাচনের ৯ দিন পার হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের এই নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনকারিদের আনুষ্ঠানিক কোন অভিনন্দন কিংবা শুভেচ্ছা জানাননি। তারা বলছেন, দলের এই শীর্ষ চেয়ারে থাকা ব্যক্তিবর্গ বিবৃতি দিয়ে ভোটারদের, পৌর নাগরিকদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারতেন। আর ২ নেতার এসব আনুষ্ঠানিকতা করা মানে পুরো দলের কৃতিত্ব এসে যায়। কিন্তু কেন তারা এ বিযয়টি সম্পাদন করলেন না এতোদিনে, বা আদৌ করবেন কি না তা রহস্যাবৃত। তবে চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি বিজয়ীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু নির্বাচনের ফলাফল পেয়েই বিবৃতি দিয়ে ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মেয়রসহ প্রার্থীদের জানিয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.