রাজরাজেশ্বরের পদ্মায় নৌ দুর্ঘটনার ফাঁদ সেই স্কুল-সাইক্লোন শেল্টার

ইব্রাহীম রনি :
চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বরে পদ্মা নদীতে দুর্ঘটনার ফাঁদ এখন বিলীন হওয়া সেই স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি। পদ্মায় ডুবে থাকা এ ভবনের কারণে সেখানে নৌদুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, নদীতে ভবনটি বিলীন হওয়ায় এবং নদীতে পানি বেশি হওয়ায় এখন তা পানির নিচে রয়েছে। জোয়ারের সময় ভবনটি পানির নিচে চলে যায় আর ভাটার সময় ভবনের উপরের অংশ কিছুটা দেখা যায়। আর পদ্মা নদীর এ রুট দিয়েই ঢাকা, চট্টগ্রাম, আরিচা, নোঙরবাড়ি, মাওয়া ফরিদপুর এলাকায় চলাচলকারী মালবাহী জাহাজাগুলো।
রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, ভাঙনের কারণে স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি জোয়ারের সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। আর ভাটার সময় ভবনের উপরের কিছু অংশ দেখা যায়। এখন কোন জাহাজ যদি এর উপর দিয়ে যায় তাহলেতো দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।
তিনি জানান, মালবাহী শিপ ও জাহাজগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, আরিচা, নোঙরবাড়ি, মাওয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায় করে এ রুট দিয়েই।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখানে নৌ দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশেকরে রাতে দুর্ঘটনার আশংকা খুবই বেশি। আমি বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। এখানে কোন নিশানা না দিলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, এ অবস্থায় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকতেই পারে। এ জন্য ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব বিআইডাব্লিটিএ অথবা বিআইডাব্লিউটিসির। তিনি জানান, বর্তমানে মেঘনা নদীর চাঁদপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
চাঁদপুর নৌপুলিশের ওসি আবু তাহের বলেন, সেখানে বাঁশ দিয়ে একটি নিশানা টাঙিয়ে দিলেইতো হয়। এটিতো চেয়ারম্যানই করতে পারেন। আমরাতো আর সেখানে পুলিশ পাহারা দিবো না।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, আমি ইউপি মেম্বারকে বলেছি আপাতত বাঁশ দিয়ে লাল নিশানা টাঙিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু বাশ দিয়ে লাল নিশানা দিলে দিনে তা দেখা যাবে। কিন্তু রাতে দেখা যাবে না। তখনইতো দুর্ঘটনার আশংকাটা বেশি। তাই এখানে একটি বয়া বাতির মতো কোন লাইটের ব্যবস্থা করার খুবই জরুরী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *