লোক দেখানো বাজেট নয়, আমাদের প্রথম বাজেট হবে বাস্তবমুখী : পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল

আশিক বিন রহিম :
তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প (ইউজিআইআইপি-০৩) এর আওতায় নগর পরিচালন উন্নতিকরণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর পৌরসভার নগর সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় চাঁদপুর পৌর পাঠাগারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বর্তমান পরিষদের প্রথম বাজেট নিয়ে পাক আলোচনা হয়।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজউদ্দিন হালদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, পৌরভার সচিব আবুল কালাম ভূঁইয়া, চাঁদপুর আত্মনিবেদিত মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মুজিবুর রহমান ভূইয়া, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপ, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির চাঁদপুর প্রতিনিধি অ্যাড. সাইফুদ্দিন বাবু, চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন বড়ুয়া, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপিকা মাসুদা নূর খান, ইউএনডিপির টাউন ম্যানেজার আব্দুল হান্নান, মেঘনা সিডিসি ক্লাস্টারের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার, সহ-সভাপতি বিউটি বেগম, ডাকাতিয়া ক্লাস্টারের কেশিয়ার শিল্পী ঘোষ প্রমুখ।
পৌর মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, আমরা পৌরসভার নাগরীকদের কাছে অঙ্গিকারবন্ধ। পৌর নাগরীকদের জন্য সমালোচনার জায়গাগুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে। সমালোচনা সয্য করতে হবে। পৌরসভার উন্নয়নে তারা যেনো তাদের মতামত তুলে ধরতে পারে। জনগণকে আমাদের লাভ লস জানাতে হবে। জনগণকে যদি আমার লাভের পাশাপাশি লস সম্পর্কে না জানাতে না পারি তবে আমরা সমালোচনার মুখে পগবো।
তিনি আরো বলেন, সামনে আমাদের পরিষদের প্রথম বাজেট। এই বাজেটে আমাদের নিজস্ব ব্যায় কমিয়ে আয়ের জায়গাটি বাড়াতে হবে। তার থেকে উন্নয়নের বরাদ্দ যেনো বাড়ানে যায় সেটিই আমাদের এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য। আমরা জণগনের কাছে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলাম। নির্বাচনী ইশতেহার হলো জনগণের সাথে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একটি চুক্তি। এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে আমরা ওয়াদাবদ্ধা। আমি এবং কাউন্সিলরগণ নির্বাচনী ইশতেহারের নামে যে ওয়াদা করেছি তা বাস্তবায়ন করবো। সরকারের বাজেটে সাধারণত নগর দরিদ্রদের কোন কর্মসূচি থাকে না। এ দিকটায় আমরা নজর দিবো। আমাদের বাজেটে তাদের জন্যে বরাদ্দ থাকবে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু করবো।
সরকারের উন্নয়ন খ্যাত থেকে কিভাবে বরাদ্দ বেশি আনা যায় সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা চালাবো অন্তত প্রতি বছরে টুয়ান্টি শতাংশ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো।
তিনি আরো বলেন, আজকের এই আলোচনা সভায় যেসব প্রস্তাব গুলো উঠে এসেছে সেগুলো আমাদের বাজেটে রাখার চেষ্টা থাকবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য লোন সহ নানা সুযোগ-সুবিধা রাখার চেষ্টা করবো। একই সাথে নগর দরিদ্রদের জন্য আমরা জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবো। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা বাজেট নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হবো। যাতে সে বাজেট বাস্তবতার সাথে মিল থাকে। আমরা লোকদেখানো কোন বাজেট উপস্থাপন করবোনা। আমরা যতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারব ততটুকুই মানুষের সামনে উপস্থাপন করবো।
পৌর মেয়র আরো বলেন, আগামী অর্থবছরে আমাদের আয় এবং ব্যয়ের জায়গাটি সুনির্দিষ্ট থাকবে যাতে আমাদের পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১২ মাসে ১২ টি বেতন যেন পায়। সেই সাথে তাদেরকে ঈদ এবং পূজা বোনাস দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের কাজের পরিধি এবং পরিবেশ গুলো যাতে ঠিক থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবো। আমরা এবার নির্বাচনী ইশতেহার মুখিখ বাজেট পৌরবাসীকে উপহার দিবো।
এসময় পৌরসভার প্যানেল মেয়র সহ সকল কাউন্সিলর ও নগর সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *