শপথেও তারা এলেন না!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এড. জিল্লুর রহমান জুয়েল শপথ নিলেন শনিবার। তার সাথে শপথ নিলেন মোট কাউন্সিলরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৯ জনসহ ২০ কাউন্সিলর। শনিবার চাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর – ৩ ( সদর ও হাইমচর) আসনের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপুমনি। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, শপথ অনুষ্ঠানে এবারও এলেন না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদ্য বিদায়ী মেয়র নাছির উদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।আড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মি এবং ছাত্রলীগ যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের প্রায় সকল শীর্ষ স্থানীয় নেতার স্থানীয় সুধী সমাজের লোকজন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ছিলেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে এই প্রথম এতো বিপুল ভোটে বিজয়ী মেয়র আর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের এমন নিরংকুশ বিজয়ে তাদের দু’ জনের অনুপস্থিতি উপস্থিত প্রায় ৩ সহস্রাধিক নেতা কর্মি সমর্থক ও সুধীদের হতবাক করেছে। জেলা সভাপতি সম্পাদক
অনুষ্ঠানে না আসায় অনুষ্ঠানস্থলেই বেশ গুন্জন শুনা গেছে নেতা কর্মিদের মুখে। মন্চে শপথবাক্য পাঠকারী বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান অতিথি ডা: দীপুমনি, ডিসি মাজেদুর রহমান খান এসপি মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান এবং জেলা আওয়ামী লীগ সহ- সভাপতি ডা: জে আর ওয়াদুদ টিপু ও সাবেক পৌর চেয়াম্যান ইউসুফ গাজী এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজিম দেওয়ান।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর জিল্লুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থকরা তাকে অজস্র ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেও নির্বাচনে শপথ অনুষ্ঠানের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ঐ ২ শীর্ষ নেতা আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনভাবেই তারা তাকে শুভেচ্ছা জানায়নি, ভোটারদেরও কৃতজ্ঞতা জানায়নি। এ নিয়ে সারা জেলাতেই চাউর আছে- তারা ২ জনের কেউই মনোনয়ন প্রত্যাশী না হয়েও কেন দলের তথা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একক নৌকা প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে চরম ভুল করলেন। তারুন্যের উচ্ছাসের কাছে বোধহয় হারাতে বসেছেন নিজেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শ্রদ্ধা সম্মানবোধ। আর তাদের এই অনুপস্থিতে আরো সন্দেহ জাগিয়ে তুলছে, তারা এই নির্বাচনে মোটেও সক্রিয় ছিলেন না। যা ভোটার, পৌরবাসী এবং আওয়ামী পরিবার কোনভাবেই প্রত্যাশা করেননি। প্রসঙ্গত : গত ক বছর আগে এই দুইজনকেই শেখ হাসিনার নির্দেশেই প্রয়াত সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাবেক সভাপতি ড. শামসুল হক ভূইয়াকে বাদ দিয়ে মেয়র নাছিরকে এবং আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জেলা সাধারন সম্পাদক ঘোষনা দিয়ে নির্বাচিত করেন এবং মন্ত্রী ও নেতা কর্মিদের সাথেও যথেষ্ট সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। কিন্তু হঠাৎ করে সভাপতির দেয়া নৌকা আর একক প্রার্থীর কাছ থেকে তাদের এই দূরে থাকার বিষয়টি পৌরবাসীর কাছে তো প্রশ্ন তাছাড়া পুরো জেলা আওয়ামী পরিবারে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থার দৃষ্টিতে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক ক জন নেতা বলছেন- এটি জেলা আওয়ামী লীগের জন্য একটি চরম অশনী সংকেত। ২ নেতার এমন অপ্রত্যাশিত আচরণ কখনো মঙ্গল বয়ে আনবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.