শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু : আজ মহাষষ্ঠী

দেবাশীষ মজুমদার :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজাকে ঘিরে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন মন্ডপ/মন্দিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপ ও প্যান্ডেলগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকের বোল, কাঁসর ঘন্টা, শঙ্খের ধ্বনিতে পূজামন্ডপ মুখর হয়ে উঠেছে। সমস্ত নিয়মকানুন মেনেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উৎসব উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরা।
গতকাল বুধবার পঞ্চমীতে দুর্গতিনাশিনী দশভূজা দেবীর বোধন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। দেবী দুর্গার মূল প্রতিমায় পূজা শুরু। ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী, দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন। সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার অনুষ্ঠান। আর ২৬ অক্টোবর বিজয়ার দশমীতে দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে মহামারি করোনাভাইরাসে এবারের দুর্গোৎসবের সেই চির পরিচিত আর আমেজ থাকছে না। শারদীয় এই উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ। এ বছর মহালয়া হয়েছে গত ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পঞ্জিকার হিসাবে এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’, মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা না হয়ে হচ্ছে কার্তিক মাসে। সেই হিসাবে এবার দেবী দুর্গা ‘মর্ত্যে আসবেন’ মহালয়ার ৩৫ দিন পরে।
চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় কোনো উৎসব হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত্ত্বিক আচারের মাধ্যমে পূজার আয়োজন হবে সীমিত পরিসরে। তিনি বলেন, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি মন্ডপে ভক্তদের প্রবেশ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ এই বছরের পূজায় ২৬ দফা নিয়মনীতি প্রণয়ন করেছে। প্রতিবছর আনন্দ উৎসব করে পূজা উদযাপন করা হয়। কিন্তু এবার উৎসব বাদ দিয়ে শুধু পূজা করা হবে। কভিড পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ লাভে সব পূজামন্ডপে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এছাড়া মন্ডপগুলোতে মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করা হবে। শুধুমাত্র ভক্তিমূলক বাদে অন্য কোনো গান বাজানো যাবে না। আতশবাজি বা পটকার ব্যবহারও করা যাবে না। তিনি বলেন, বিজয়ার দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে কোন শোভাযাত্রা করা হবে না। বিসর্জনের দিন বিভিন্ন মন্ডপের প্রতিমা এবার একত্রিত হয়ে বের হবে না। নিজ নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন মন্ডপ থেকে প্রতিমা বের করে বিসর্জনস্থলে গিয়ে বিসর্জন দিতে হবে। তিনি জানান, এ বছর চাঁদপুর জেলায় ২০২টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৩২টি মন্ডপে এ পূজা হচ্ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী মহিষ্সাুর নামে এক দানব স্বর্গরাজ্য দখল করে ফেলে। তখন রাজ্যহারা সব দেবতা বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। বিষ্ণুর নির্দেশে সব দেবতার শক্তি থেকে জন্মলাভ করে দেবী দুর্গা। যে পরে মহিষাসুরকে বধ করে স্বর্গরাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.