শিক্ষা প্রকৌশলের ইঞ্জিনিয়ার নূর আলমকে কুমিল্লায় বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর আলমকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রশাসন আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য হাজীগঞ্জের উপ-সহকারি প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, এ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কোন আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, হেড অফিস থেকে ইতোমধ্যে উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুরে আলমকে কুমিল্লার বড়ুয়ায় বদলী করা হয়েছে। তার স্থলে আমাকে কচুয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে আমি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবো কি না তা দেখছি। তবে হেড অফিসের নির্দেশনাতো মানতেই হবে।
স্কুল ভবন নির্মাণে কোন অনিয়মের তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও ঢাকা থেকে চিঠি আসে নাই। চিঠি পেলে সাথে সাথেই কাজের গুণগতমান যাচাই করা হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।
উল্লেখ্য, ৬ কোটি টাকা ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মান কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনন্ত ট্রেডার্স (জেবি)। এরপর অনন্ত ট্রেডার্স কাজটি বিক্রি কর দেয় শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের সাবেক কর্মচারী আশ্রাফুল আলম রনির কাছে। ভবন নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই চলে আসছে নানা অনিয়য়মের অভিযোগ করে আসছিলেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। অভিবাবকদের অভিযোগ, সিডিউলে ঢালাই কাজে এক নম্বর সিমেন্ট দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে দুই নম্বর সিমেন্ট, উন্নতমানের স্টোন সিপস-এর পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের ভোতা পাথর। কম দেয়া হয়েছে রড। ব্যবহার করা হয়েছে ডাস্ট ও মাটি মিশ্রিত বালু। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় অভিভাবকরা একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরকে জানানোর পর একপর্যায়ে তিনি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১৯ জুলাই উপসহকারী প্রকৌশলী সাইটে গেলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ারের গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনার পর ইঞ্জিনিয়ার বাদী হয়ে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৪ দিনের মধ্যেই গত ২৩ জুলাই উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহানকে সাময়িক বহিস্কার করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *