হাইমচরে অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ

হাইমচর প্রতিনিধি :
হাইমচরে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাইমচর উপজেলার ৬টি বাজারসহ বেরিবাঁধের বাহিরে থাকা গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ওই সব গ্রামের প্রায় হাজার হাজার মানুষ। পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক, ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে পানের বোরজ, ফসলী জমিনসহ মানুষজনের ঘরবাড়ি। গবাদি পশু গরু, ছগল, হাস মুরগী বেড়ি বাঁধের উপরে নিয়ে রাখা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বেড়ি বাঁধের উপরে দিয়ে পানি প্লাবিত হয়ে বেড়ি বাঁধের বিতরেরও অনেক বাড়ি ঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। স্মরনকালের সেরা পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার মানুসের স্বপ্ন। নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবারগুলো। নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রতিটি ঘর তলিয়ে গেছে জোয়ারের পানিতে, চরাঞ্চলে পানির শ্রোতে বসতঘর ভেঙ্গে পড়ে অনেকে আহত হওয়ারও সংবাদ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরভৈরবী বাজার, আমতলি বাজার, চরভৈরবী নতুন বাজার, হাইমচর বাজার, তেলির মোড় বাজার, কাটাখালি বাজারসহ জালিয়ারচর, আমতলি, গাজিনগর, হাইমচর, চরভাঙ্গা, পশ্চিমচরকৃষ্ণপুর, কাঠাখালি ও লামচরি গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। চরভৈরী, কালাচকিদার মোড়, তেলির মোড় এবং মহজমপুর বেড়িবাঁধের উপরে দিয়ে পানি পাøাবিত হচ্ছে।
মহজমপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর জানান, আমার ঘরের বিতরে কোমড় পরিমান পানি উঠেছে। ঘরের আসবাপত্র চকির উপরে উঠিয়েও রক্ষা হয়নি। পানিতে বেসে গেছে হাস, মোরগসহ ঘরের আসবাপত্র। এমন পানি আমার জীবনে কখনো দেখিনি। হঠাৎ করে ঘর বাড়ি, পথ ঘাট সব তলিয়ে গেল।
পশ্চিমচর কৃষ্ণপুর এলাকার মৎস্যজীবী জসিম জানান, জোয়ারের পানিতে তার মাছের ঘের তলিয়ে রয়েছে। জায়ারের পানিতে তার মৎস্য ঘেরের প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
৬নং চরভৈরবী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আহমেদ আলী মাষ্টার জানান, উপজেলার মধ্যে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে আমার ইউনিয়নের বাসীন্দাদের। আমার ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দী হয়ে আছে। প্রায় ৪০০ মৎস্য ব্যবসায়ীর মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে প্রায় ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। আমতলির সড়কটির উপর দিয়ে পানি প্লাবিত হয়ে সড়কটি ভেঙ্গে গেছে।
১নং গাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্য্রান হাবিবুর রহমান গাজি জানান, তার ইউনিয়নে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তার ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘর বাড়ি। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২টি ঘর পানির শ্রোতে ভেঙ্গে গেছে অনেকেই আহত হয়েছে তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য আমার ছেলেসহ লোকজন পাঠিয়েছি। আমার ইউনিয়ন সহ চরাঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *