হাইমচরে বউ থাকা সত্বেও শিক্ষিকাকে বিয়ে করলেন মাদরাসা পরিচালক

হাইমচর প্রতিনিধি :
হাইমচরে ঘরে বউ থাকা সত্যেও শিক্ষিকাকে বিয়ে করলেন মাদরাসা পরিচালক। স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন মাদরাসা পরিচালক নাজমুল মেলকার। এ নিয়ে হাইমচরে বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়, হাইমচর আলগী বাজার পশু হাসপাতালের সামনে হাফেজে কোরআন তৈরির নিমিত্তে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসা। এই মাদরাসায় ছাত্র ভর্তি ঠেকাতে নিজের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা ভবনে হযরত ফাতেমা রা. মহিলা হাফিজিয়া মাদরাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে ছাত্র ভর্তি শুরু করে নাজমুল হোসেন মেলকার। মহিলা হাফিজিয়া মাদরাসায় ছাত্র ভর্তি করানোর কারণে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সেখানে ভিন্ন একটি শাখা খুলে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ‘মাদরাসায় ছাত্র রাখার কোনো অধিকার নাই’ বলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, অনিবার্য কারণে সময়মত বেতন পরিশোধ করতে না পারলে কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মোহতামীম ও শিক্ষকবৃন্দ। এর মাঝেই স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্বেও মহিলা শিক্ষিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করলেন মাদরাসার পরিচালক নাজমুল মেলকার। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যপারে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমি মাদরাসার শিক্ষিকাকে বিয়ে করেছি। এত আমি কোন অন্যায় করেছি বলে মনে হয় না। প্রয়োজনে আমি তিনটি বিয়ে করবো। তবুও মাদরাসা সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিবো। আমার শ্বশুর যদি দুই বউ নিয়ে ঘর সংসার করতে পারে আমি কেন পারবো না। আমার প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে মাদরাসায় ছাত্র জায়গা দিতে পারছিনা, যারা টাকা দিতে পারবেনা তাদের সন্তান মাদরাসায় রাখতে পারছি না।
নাজমুল মেলকারের ১ম স্ত্রীর বাবা হোটেল কালু জানান, নাজমুল আমার মেয়ের জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে। এ মাদরাসাটি দেয়ার পর থেকেই সে আমার মেয়ের উপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। সে এখন মাদরাসার শিক্ষিকাকে বিয়ে করে আমার মেয়েকে মারধোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তারা ব্যার্থ হলে আমি আইনের আশ্রয় নিব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *