হাজীগঞ্জে প্রাইভেট না পড়ায় বই নিয়ে গেলেন প্রধান শিক্ষক

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রাইভেট না পড়ায় প্রধান শিক্ষক নিয়ে গেলেন সরকারের দেয়া পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্য বই সমূহ। ১৫ দিন হয়ে গেলো বইগুলো এখনো ফেরত দেয়নি।উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের রাধাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন সাহা। আর শিক্ষার্থী হলো ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী আয়েশা আক্তার। তার রোল নং ৩। তার বাবা রাধাসা গ্রামের বাবুল মিজি।
স্কুলছাত্রী আয়েশার মা বলেন, স্যার আসার কথা সকাল ১০টায়। আসলেন বিকাল ৩টায়। এদিকে স্যারের দেরি দেখে আমার মেয়ে দুপুরে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। করোনা সময়ে স্যার বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ান। ছাত্রী কেন ঘুম থেকে উঠে প্রাইভেট পড়লো না। তাই রেগে গেলেন স্যার। শুধু রেগে গালিগালাজ করে ক্ষান্ত হয়নি। নিয়ে গেলেন আমার মেয়েকে সরকারের দেয়া পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্য বই গুলো।
তিনি আরো জনান, আমার মেয়ে মেধাবী ছাত্রী। স্যার আমার সাথে যেই আচরণ করেছে, আমার মেয়ের সাথে কি আচরণ করে তা বুঝতে বাকী নাই। এমনকি আমার বাসা থেকে পাঠ্যবই গুলো নিয়ে গেছে। আজ ১৫ দিন হয়ে গেল, বইগুলো ফেরত দিচ্ছে না। আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি।
শিক্ষার্থীর মা ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, কেনো গালিগালাজ করেন বলাতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি। তিনি বলেন, আপনার মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাবেন না। আমি বললাম, ঠিক আছে স্কুলে পাঠাবো না, তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন। তিনি বই দিয়ে দেয়ার জন্য বলেন, সরকারকে নাকি বইয়ের হিসাব দিতে হবে এবং পরদিন একটি ছেলেকে পাঠিয়ে বই নিয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষক এমন আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি।
ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ইউছুফ পাটওয়ারী বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ৪/৫ দিন আগে শিক্ষককের সাথে ফোনে কথা বলেছি। বলেছে বই ফেরত দিয়ে দিবে।
শনিবারে মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক তপন সাহা বলেন, আমি বইগুলো এনেছি। রোববার বইগুলো ফেরত দিয়ে দেবো।’
জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর বাবা আমাকে বিষয়টি মুঠোফোনে জানিয়েছে। আমি ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এবং শিক্ষার্থীর বাবাকে একটি লিখিত আভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক বই ফেরত নেয়ার অধিকার রাখে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *