হাজীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মানববন্ধন

মুন্সী মোহাম্মদ মনির :
মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ ও তার কন্যা দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর দূর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে হাজীগঞ্জে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা চত্ত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের আয়োজনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রব খোকন বিএসসির সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চুননু ও মো. নুরুল আমিনের যৌথ উপস্থাপনায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ ও তার কন্যা ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। এ সময় তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় নয়, আমরা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকতে চাই।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বিএনপি-জামায়াত সরকারের সৃষ্টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এই মন্ত্রণালয় ও জামুকায় মুক্তিযোদ্ধারা হয়রানি শিকার হয়ে থাকে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে পারেনি। যার ফলে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত, নির্যাতন ও হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আগামি ১০/১৫ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে পাওয়া যাবেনা। বেঁচে থাকতেই আমরা ও আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা না থাকলে আমাদের সন্তানদের কি হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য সুরক্ষা আইনের দাবি করেন।
সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করে তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আহবানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ সাধারণ জনগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এটি ছিলো জনযুদ্ধ। কিন্তু আজ অনেকে সামরিক যুদ্ধ বলছেন। সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকায় আজ এই প্রশ্ন। তাই আমাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. রুহুল আমিন, মো. মফিজুল ইসলাম, আবুল বাশার সর্দার, মো. খোরশেদ আলম, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রবিউল আউয়াল বিল্পব প্রমুখ। বক্তব্য শেষে বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে নিহত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল শহিদ ও নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার আহমেদ।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, তকদিল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আবুল কালাম, মফিজুল ইসলাম, কামাল হোসেন মজুমদার, আব্দুল আউয়াল পাটোয়ারী, আব্দুর রবসহ অর্ধ-শতাধীক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *