হাজীগঞ্জ তুচ্ছ ঘটনায় অসহায় পরিবারের উপর হামলা, চারজনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর হাজীগঞ্জ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের নারী-পুরুষসহ চারজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। ৬ জুন রোববার দুপুর দেড়টায় উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর মালিগাঁও মেহের আলী হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ফিরোজ মিয়া (৪০), তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩২), সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে অনিকা (১২), বৃদ্ধা মা চন্দ্রজান।
আহতদের ৩জন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর বৃদ্ধা মা চন্দ্রজান হাজীগঞ্জে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায়, আহতদের মধ্যে সিরাজ মিয়ার অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। তার মাথায় আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
আহত মর্জিনা বেগম জানান, তার স্বামীর সৎ ভাই আবুল খায়ের মিয়ার সাথে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ো প্রায় সময় আবুল খায়ের এবং তার ছেলেরা তাদেরকে এই বসতভিটে ছেড়ে যাওয়ার জন্য নানান ভাবে ভয়-ভীতি হুমকি-ধমকি দেখিয়ে আসছে। কথায় কথায় তাদের উপর হামলা করে, মারধর করে।
তিনি জানান, ঘটনার দিন রোববার দুপুরে তিনি এবং তার স্বামী সিরাজ মিয়া বাড়ির উঠোনে বসে পারিবারিক বিষয়ে কথা বলছিলেন। এসময় আবুল খায়েরের পুত্র কাদের মিয়া ও স্ত্রী কোহিনুর বেগম গায়ে পড়ে তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আবুল খায়েরের পুত্র কাদের মিয়া, জাকির, হানিফ, মে হাসিনা স্ত্রী কোহিনুর বেগম এবং পুত্রবধূ বকুল তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ঘরে থাকা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে সিরাজ মিয়া ও তার স্ত্রীকে বেদম পেটাতে থাকে। এসময় সিরাজ মিয়ার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে অনিকা এবং তার বৃদ্ধ মা চন্দ্র জাহান ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে ছুটে এলে, উল্লেখিতরা তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে।
তিনি আরো বলেন, তারা আমার ডান হাতে লোহার অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আমাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আমার স্বামীকে বহিরাগত লোকজনদের সাথে নিয়ে টেনেহিঁচড়ে চারদিক ঘিরে ফেলে সঙ্ঘবদ্ধভাবে কুপিয়ে জখম করে। তাদের হাত থেকে আমার ছোট্ট স্কুল পড়ুয়া মেয়েটিও রক্ষা পায়নি।
এই ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *