১ টাকার সালামিতে চাঁদপুরে দুই শতাংশ জমিসহ ঘর পাচ্ছে ১০৯ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃক চাঁদপুরে দ্বিতীয় ধাপে ১০৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেয়া হচ্ছে। এক টাকার সালামিতে এসব পরিবারকে দুই শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। আগামী ২০ জুন জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক অঞ্জন খান মজলিশ।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৭টি, কচুয়ায় ২টি, মতলব উত্তরে ৩০টি, হাজীগঞ্জে ১০টি, শাহরাস্তিতে ৩০টি এবং হাইমচরে ২০টি পরিবারকে এ ঘর দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এসব ঘরের বেশিরভাগই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা এ ঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, একটি চয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেস।
জেলা প্রশাসক জানান, আগামী ২০ জুন ২০২১ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২য় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩শত ৪০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। ১ম পর্যায়ে ৬৬,১৮৯ জনকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় ‘ক’ শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার এর সংখ্যা ১৬১৭ টি। চাঁদপুর জেলায় ১ম পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১১৫টি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৪৫টি সহ মোট ১৬০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ২০ জুন ২০২১ এর মধ্যে ৯৩টি এবং পরবর্তীতে ১৬টি সহ মোট ১০৯টি পরিবারকে এবং ৩২৫টি পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বমোট ৪৩৪ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এ সকল পরিবারকে এক টাকা সালামীতে দুই শতক জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। কবুলিয়ত, রেজিস্ট্রেশন, নামজারী ও জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন, সনদপত্র প্রদানসহ সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক ডি.সি.আর এর ১১৫০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি একক গৃহের আয়তন ৩৯৫ বর্গফুট। দুইকক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা গৃহে একটি টয়লেট, একটি রান্নার কক্ষ ও একটি ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে। চাঁদপুর জেলায় ১ম পর্যায়ে গুচ্ছগ্রাম হতে ৮৫টি, আশ্রয়ণ হতে ২০টি ও দুর্যোগ হতে ৩০টি অর্থাৎ মোট ১৩৫টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে দুর্যোগ হতে ১০৯টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। মাটি ভরাট করার জন্য এ জেলায় ২য় পর্যায়ে মোট ১০০.০০ মে:টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মহোদয় জানান, খাস জমি উদ্ধার করে এ জেলায় পুনর্বাসন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে আগামী ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে পুনর্বাসনের জন্য সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুনর্বাসনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দকে জায়গা নির্বাচন, মাটি ভরাটসহ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের বেতনের টাকায় চাঁদপুর জেলায় ২টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সংস্থা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর জেলায় ১১৮টি ঘর করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ০২টিসহ মোট ২৫টি ঘর ইতো:মধ্যে নির্মিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে চাঁদপুর জেলায় নিষ্কন্টক কৃষি খাস জমি অপ্রতুল হলেও জেলার ৪জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে ২টি করে ৮টি উপজেলায় নিষ্কন্টক খাস জমি খুঁজে বের করাসহ এ সংক্রান্ত সকল কাজ মনিটর করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই চাঁদপুর জেলাতেও যেন একজন মানুষও গৃহহীন না থাকে সেজন্য আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই ১৬১৭টি ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবারের তালিকা করেছি। খাস জমি উদ্ধার করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে ঘর দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলায় নিষ্কন্টক খাস জমি অপ্রতুল হলেও জেলার ৪ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে ২টি করে ৮টি উপজেলায় নিস্কন্টক খাস জমি খুজে বের করাসহ এ সংক্রান্ত সকল কাজ মনিটর করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে। কারণ, এই ঘরগুলো গৃহহীন পরিবারের মাথার উপরে একটি ছায়া হবে। যেন তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট না পায়। তাই ১ টাকার সালামীতে তাদের ঘরগুলো দেয়া হয়েছে। সেই সাথে জমি রেজিস্ট্রেশন স্বাপেক্ষে নামজারি করে তা দেয়া হচ্ছে। এ ঘরগুলো যাদেরকে দেয়া হয়েছে তারা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চেšধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসিম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) ইমতিয়াজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশাসহ সাংবাদিকবৃন্দ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *