‌ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর কিছু অভয়াশ্রমে থাকবে না’

কামরুজ্জামান হারুন :
ইলিশের উৎপাদন ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে নদী ঘুরে দেখেছেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বুধবার দুপুরে তিনি নৌবাহিনীর জাহাজযোগে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মোহনপুর এলাকায় আসেন। পরে তিনি জাহাজে থেকেই নদীপাড়ে উপস্থিত জেলেসহ বিভিন্নস্তরের জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে আরও যাতে বৃদ্ধি করা যায় সেজন্য ইলিশ প্রজননের এলাকাগুলোকে কোনভাবেই দূষিত তরল কোন ক্যামিকেল নির্গত হয়- এমন কোন যানবাহন ঢুকতে দেব না। সেখানে কোনভাবেই কাউকে মাছ আহরণ করতে দেব না। শুধু তাই নয়, অন্যকোনভাবে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেটিও আমরা এলাউ করবো না। আমরা পরিবেশটাকে এমন রাখবো- যেন নির্বিঘ্নে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে। সেই সাথে মাছের বাচ্চা বড় হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রটেকটেড রাখবো। যখন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে বাচ্চাগুলো চলাচল করতে পারে।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমাদের ভূমিকা খুবই কঠোর হবে। ন্যূনতম কোন স্লথ যদি আমাদের কেউ করে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। যদি কোন নিয়ম ভঙ্গ কেউ করেন তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। মাছের উৎপাদনের এই বিপ্লবের ধারাকে আমরা অব্যাহত রাখবো।
তিনি বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে কোন ইলিশ রপ্তানির পক্ষে নই। রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সৌহার্দ্য রক্ষার ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন রকমের আইটেমের আদান-প্রদান হয়।
মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে কোনস্তরের ইলিশ মাছ ধরা এবং বিক্রয় যাবে না। এই সময় মা ইলিশ ডিম ছাড়ে, বাচ্চা দেয়। একটি ইলিশ থেকে দেড় লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত বাচ্চা হতে পারে। এই সময়টা বাচ্চা দেওয়ার মৌসুম। এই সময়ে মা ইলিশের কোন বিঘ্ন যদি না হয় তাহলে দেখা যাবে ইলিশ এতো বেশি হবে যে উৎপাদিত ইলিশ বাংলাদেশের সকল মানুষ যেমনি পাবে। তেমনি এর পরিসর বৃদ্ধি পেলে দেশের বাইরেও রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন পারবো।
তিনি বলেন, এই সময়ের কর্মসূচিতে আমাদের নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, প্রশাসনিক সকল দপ্তর মাঠে থাকবে। আমি নিজেও মাঠে আছি। গভীর রাতে ফাকি দিয়ে নদীতে নামলে ধরা পড়বে। সরাসরি তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেয়া হবে। যে সাজার পরিমাণ হবে ন্যুনতম এক বছর।
তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সচেতন করছি। আশা করি, মৎস্যজীবীসহ মৎস্য আহরণে যারা জড়িত তাদের কেউই অন্যায় কাজের দিকে যাবেন না। তারপরও যদি কেউ তা করেন সেক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকবে না।
মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। যেটিকে বিপ্লব বলা হচ্ছে। এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের। এ সাফল্য আমরা ধরে রাখতে চাই। যিনিই বাধা হবেন তাকেই আমরা আইনের আওতায় আনবো।
মন্ত্রী বলেন, মৎস্যজীবীদেরকে আমরা ভিজিএফ-এর যে সহায়তা দিচ্ছি আমরা মনে করি এটি যথেষ্ট। অতীতের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপরও যদি কোন অভিযোগ আসে- সেটিকে আমরা খতিয়ে দেখবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী শামছ আফরোজ, মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ, নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকীসহ নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.