হাজীগঞ্জে পরিবর্তনের হাওয়া!‘স্মার্ট পৌরসভা’গড়ার ভিশনে আলোচনায় অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :

​আসন্ন হাজিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থার দাবিতে সচেতন নাগরিকেরা খুঁজছেন একজন সৎ, শিক্ষিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া।

​দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতিমধ্যেই একটি পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য ইমেজ তৈরি করেছেন। নাগরিকদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, তাঁর মতো শিক্ষিত নেতৃত্ব হাজীগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব রূপ দিতে সক্ষম হতে পারে।

​স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত, ডিজিটাল ও জনবান্ধব প্রশাসন তিনি হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর কথা বলেছেন। তাঁর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পৌরসভার বিভিন্ন সেবা—যেমন হোল্ডিং ট্যাক্স,ট্রেড লাইসেন্স ও সনদ প্রদান—ধাপে ধাপে অনলাইনভিত্তিক করা যেতে পারে।

​পৌরসভাকে তিনি জনগণের মিলনমেলায় রূপান্তর করতে চান। টেন্ডারবাজি ও তদবির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে মেধাবী ও সৎ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য মেয়রের দরজা সবসময় খোলা রাখার অঙ্গীকার করেছেন অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন।

​শিক্ষা ও মেধা উন্নয়ন ​শিক্ষা খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে।

​নিরাপদ শহর গড়ার উদ্যোগ

​নগর নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন।

​স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক বিনোদন

​গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও বিনোদন পার্কের উন্নয়ন করা হবে। নাগরিক সমাজ মানেই হবে সবার সমান অধিকার।

​তরুণ প্রজন্মের জন্য আইটি ও কর্মসংস্থান ​”আমি একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে জানি, আমাদের তরুণদের সম্ভাবনা কতটা। প্রতিটি ওয়ার্ডে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন এবং একটি আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে আমাদের যুবসমাজ ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারে।”

​অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,​”আমি কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে হাজীগঞ্জকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে চাই। ডিজিটাল এই যুগে আমাদের সন্তানরা কেন পিছিয়ে থাকবে? প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা হাজিগঞ্জকে চাঁদপুর জেলার সেরা পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”

​অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া

এমএ (১ম শ্রেণী), আইএসএএম (১ম শ্রেণী), এমএম (১ম শ্রেণী), এলএলবি, পিএইচডি ফেলো

​যেসব দেশে কনফারেন্স ও শিক্ষা সেমিনারে অংশ নিয়েছেন: আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, থাইল্যান্ড, স্পেন, পোল্যান্ড, তুরস্ক, ব্রাজিল, নরওয়ে, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস,আয়ারল্যান্ড,ফিনল্যান্ড, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, গ্রিস,হাঙ্গেরি,আইসল্যান্ড, ইউক্রেন, ভারত, নেপাল, চীন,সৌদি আরব,দুবাই,সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।

​নাগরিক সমাজের ভাবনা ​এলাকার সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, নাগরিক সমাজের প্রার্থী হিসেবে একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে পৌরপিতার আসনে বসানো গেলে হাজীগঞ্জের দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তাঁর এই ‘স্মার্ট সিটি’ পরিকল্পনা তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শেয়ার করুন