উন্নত সম্মৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে দেশকে মাদকমুক্ত করতে হবে : জেলা প্রশাসক

চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (২০ জুন) দুপুরে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান।
তিনি বক্তব্যে বলেন, মাদক নির্মূল করা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যকতা। ২০৪১ সালে উন্নত সম্মৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে আমাদের দেশকে মাদকমুক্ত করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজের প্রতিনিধিদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সন্তানদের খেয়াল রাখার দায়িত্ব আমার। সন্তানদেরকে সময় দিতে হবে এবং সঠিকভাবে খোঁজখবর নিতে হবে। যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে মাদককে নির্মূল করা সম্ভব, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জিরো ট্রলারেন্স বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পরিশেষে জেলা প্রশাসক করোনা সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং মাস্ক পরার পরামর্শ দেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা, গবেষনা ও প্রকাশনা) মোহাম্মদ আব্দুল হাই পিএএ।
তিনি বলেন, মাদক কখনই নির্মূল করা যায় না। কিন্তু কিছু কিছু মাদক আছে তা নির্মূল করতে হবে। মাদকের চাহিদাগুলোকে নষ্ট করে দিতে হবে। আইন করে মাদক বন্ধ করা যাচ্ছে না কারণ নতুন নতুন মাদক আসছে।
তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের জন্যে প্রতিটি জেলাতে পুর্নবাসন কেন্দ্র করা দরকার। মাদকাসক্তদের একা ঘরে রাখা মারাত্মক ঝুঁকি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স করেছেন। তারজন্যে প্রতিটি পরিবারের সচেতন হতে হবে। সরকার অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মাদকের ব্যাপারে সরকার আইন করেছেন। সবাই মিলে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।
পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) বলেন, মুরুব্বি শাসন নেই। এ অসঙ্গতিই হচ্ছে আমাদের মূল কারণ। পরিবারের সবাই একে অপরের খবর নিচ্ছি না। নিজের সন্তানের খবর ঠিকমত নিচ্ছে। পরিবারের সন্তানটি কেমন প্রথম ধরা খাবে তার পিতা মাতার চোখে। সমাজেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে মাদক নির্মূলে। মাদককে নির্মূল করতে প্রথম ধাপই হচ্ছে পরিবার থেকে। এরপর হচ্ছে শিক্ষক। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সপ্তাহে অন্তত একটি সেমিনার করা উচিত। নিজ সন্তানদের বেশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতির মাধ্যমে সম্পৃক্ত করাতে হবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমতিয়াজ হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, এনএসআই এর উপ-পরিচালক শাহ আরমান আহমেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন প্রমূখ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.