ওয়েলিংটন ম্যাগাজিনের চোখে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কর্মকর্তা এআইজি শামসুন্নাহার

চাঁদপুর প্রতিদিন ডেস্ক :
নিউজিল্যান্ডের সুপরিচিত সাময়িকী দ্য ওয়েলিংটন ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের নারী পুলিশ কর্মকর্তা শামসুন্নাহারকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে শামসুন্নাহারকে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও রুচিশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


দ্য ওয়েলিংটন ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যায় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এই সংখ্যায় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তা শেখ আবুল বাশারসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ সংখ্যাটির শিরোনাম ‘যেসব মানুষ জাতিকে আলোকিত করেছেন’।
বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তা শামসুন্নাহারকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশে কোনো পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্বদানকারী প্রথম নারী কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (এআইজি), বাংলাদেশ পদে কর্মরত। বিশ্ব মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তিনি গত ২২ সেপ্টেম্বর Italy-র Brindisi শহরে United Nations Global Service Centre (UNGSC) এর Standing Police Capasity (SPC)-তে Human Resources Officer পদে যোগদান করেন।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ফরিদপুরে জন্মগ্রহণকারী শামসুন্নাহার ১৯৯৩ সালে ১৬ বছর বয়সে যশোরে বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে যান। সেই থেকে তাঁর স্বপ্ন, তিনি দেশমাতৃকার প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখবেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট করপসের ক্যাডেট ছিলেন। কিন্তু শামসুন্নাহারের জন্য সামরিক বাহিনীর সদস্য হওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ, তখনো সামরিক বাহিনীতে নারী সদস্য নিয়োগ সেভাবে শুরু হয়নি। একপর্যায়ে জাতিকে সেবা দিতে শামসুন্নাহার বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
শামসুন্নাহার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে সাতবার জাতিসংঘ শান্তি পদক অর্জন করেছেন। নিজ দেশে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম)। দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ মেডেলও (বিপিএম) অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি উইমেন পুলিশ মেডেল ফর ব্রেভ উইমেন পুলিশ অফিসার এবং দুটি আইজি ব্যাজও অর্জন করেছেন। তাঁর বাবা শামসুল হক ভোলা মাস্টার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। তাঁর মা আমিনা বেগম পেয়েছেন ‘রত্নগর্ভা’ পদক।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে শামসুন্নাহার ২০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম চেষ্টায়ই তিনি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁর প্রথম পছন্দ হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ পুলিশেই। এরপর দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকেন শামসুন্নাহার। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরপর দুই বছর পুলিশের বার্ষিক প্যারেডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসপি হিসেবে তাঁর প্রথম পদায়ন হয়েছিল চাঁদপুর জেলায়।
গাজীপুরের এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শামসুন্নাহার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব শর্তই আমি পূরণ করেছি। আমার নিজের প্রতি আস্থা আছে এবং এ কারণেই আজ আমি এখানে।’

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *