খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব : সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম

চট্টগ্রাম এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহণে ৩৫তম বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কে.এম.আলী আজম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার সকল জেলা প্রশাসক।

 

চট্টগ্রামে বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম বলেছেন, ‘সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা করলে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে। খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব। এজন্য সরকার সব বিভাগীয় পর্যায়ে খেলাধুলার আয়োজন করছে।’ গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের ছেলে-মেয়েদের বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কেএম আলী আজম।


চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. নওয়াব আসলাম হাবীব উপস্থিত ছিলেন। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম আরও বলেন, ‘ক্রিকেটসহ সবক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বর্তমান সময়ে শিশু থেকে শুরু করে ছাত্রসমাজ অধিকাংশই খেলাধুলা বলতে বুঝে অনলাইন-ভিডিও গেম। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে যেমন ক্ষতিকর, তেমনি মানসিক বিকাশের পথেও অন্যতম বাধা। তাই আমাদের সন্তানদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা খেলাধুলা শরীর চর্চার একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে শরীর চালনা, যা মানুষের শারীরিক দক্ষতা ক্রমশ বাড়িয়ে তোলে। তাছাড়া অন্তহীন আনন্দের উপকরণও হলো খেলাধুলা।’ বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. নওয়াব আসলাম হাবীব জানান, জাকজমকভাবে এবারের খেলা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন হয়েছে। এবারের বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভাগের ১১জন জেলা প্রশাসক ও ১১জন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকরা হলেন, চট্রগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, চাঁদপুরের অন্জনা খান মজলিশ, কুমিল্লার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, কক্সবাজারের মামুনুর রশিদ, রাঙামাটির মিজানুর রহমান, বান্দরবানের ইয়াসমিন পারভীন তীবরীজি, ব্রাম্মবাড়িয়ার শাহগীর আলম, খাগড়াছড়ির প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, ফেনীর আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, নোয়াখালীর দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান ও লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আখন্দ।
বিভাগীয় বার্ষিক এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অলিম্পিক মশাল প্রজ্বালন করেন ভারতের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত জাতীয় অ্যাথলেট সাংবাদিক সোহেল সরওয়ার ও সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট স্মরণিকা চাকমা।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুধীজনদের সাথে চট্রগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস। সম্মানিত ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশার, ১১ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্যান্য সুধীজন এতে অংশ নেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.