চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ২১০ মন্ডপে হবে দুর্গাপূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। ঢাকের পিঠে বাড়ি পড়বে, আর ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে পদার্পণ করবে দুর্গতিনাশিনী, দশভূজা দেবী দুর্গা। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনকল্পে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর শহরের শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রোটাঃ তমাল ঘোষ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার, হরিবলা কমিটির সভাপতি অজয় ভৌমিক, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অজিত সাহা, ডাঃ পরেশ পাল, জেলা পূজা পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব রাধা গোবিন্দ ঘোষ, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বিমল চৌধুরী, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুশীল সাহা, সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, মতলব উত্তর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অজিত বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক রোটাঃ শ্যামল চন্দ্র দাস, মতলব দক্ষিণ উপজেলার পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি কিশোর কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহা, কচুয়া উপজেলার সভাপতি ফনি ভূষণ তাপু, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সভাপতি হিতেষ শর্মা, সাধারণ সম্পাদক লিটন দাস, হাজীগঞ্জ উপজেলার পক্ষে দপ্তর সম্পাদক সুজন দাস, হাইমচর উপজেলার সভাপতি বিবেক লাল মজুমদার, জেলা পূজা পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মুন্না সাহা, সদস্য জুয়েল কান্তি নন্দু, চন্দন ঘোষসহ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গীতা পাঠ করেন কল্পনা সরকার।
পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১০ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ১৪ অক্টোবর মহানমবী ও ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী। এ বছর চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় ২১০টি পূজা মন্ডপে এ বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল ঘোষ বলেন, আসন্ন দূর্গা পূজা সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদ্যাপনের সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করছি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চাঁদপুরের দীর্ঘদিনের লালিত ঐতিহ্য। প্রতিটি পূজা মন্ডপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পূজা মন্ডপে পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অঘটন ঘটে যায়। কাজে কোন সুযোগ সন্ধানী মহল যাতে তুচ্ছ কোন ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে বড় কোন অঘটন ঘটাতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রাখার জন্য বলা হয়। একই সাথে পূজা মন্ডপের পেছনের অংশে কোনভাবে যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন না থাকে সেদিকেও আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। চাঁদপুর শহরের পূজা মন্ডপে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আনসার ও ভিডিপির সদস্যদেরকে তাদের স্থানীয় পূজা মন্ডপে মোতায়েন করার প্রস্তাব করেন যাতে তারা সাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে। প্রতিটি পূজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনের জন্য পূজা মন্ডপের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ভদ্র ও বিনয়ী যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের জন্য এবং উগ্র ও অসহিষ্ণু আচরণের কোন যুবক সেচ্ছাসেবক দলে না রাখার জন্য পূজা মন্ডপের আয়োজকদের আহ্বান করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের দেওয়া প্রত্যেকটি নির্দেশনা আমাদেরকে পালন করতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.