চাঁদপুরে বেসরকারি হাসপাতালের একটিতেও করোনা ইউনিট নেই!

সরকারি জেনারেল হাসপাতাল রোগীর ভারে নিজেই আক্রান্ত
: নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর একরকম হাসপাতালের আর ক্লিনিকের শহরই বলি, তাহলে বোধহয় ভুল হবে না। জেলা শহরের বড় রাস্তার পাশ এমনকি অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাসপাতাল। অনেক উপজেলা শহরেও বড় বড় বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সরকারি হিসাবে বেসরকারি হাসপাতাল আছে ৩৯ টি। কিন্তু সরকারি খাতাপত্রের এ হিসাব দ্বিগুনেরও বেশি। কিন্তু করোনাকালের ১৭ মাসেও এসব বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একটাতেও করোনা ইউনিট নেই! অথচ এখানে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল আছে, যারা ইচ্ছা করলেই তাদের একটা ফ্লোরে বা কয়েকটি ক্যাবিনকে করোনা ইউনিট ঘোষনা করে এই মহা দুঃহসময়ে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সেবা দিতে পারেন। স্থানী স্বাস্থ্য সেবা কর্তৃপক্ষ জানায় অনুমেদিত হাসপাতালগুলো ২০ শয্যা এবং ১০ শয্যার। ২০ শয্যার ২টি হয়েছে একটি শহরের প্রিমিয়ার এবং অন্যটি ভেলভিও হাসপাতাল। বাকিগুলো ১০ শয্যার। কিন্তু প্রতিটি হাসপাতেলেই নির্দিষ্ট শয্যার দ্বিগুনের বেশি!
এদিকে চাঁদপুরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে করোনা রোগী নিয়ে চিকিৎসক নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনা ইউনিট ছাড়িয়ে অন্যান্য বারান্দায়, মেঝেতে রোগী আর রোগী। প্রতিনিয়ত রোগী সামাল দিতে ডাক্তার নার্স বয়সহ সবাই অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছেন। একটু নুন থেকে চুন খসলেই চিকিৎসক নার্সদের উপর চড়াও হচ্ছে রোগীর সাথে আসা রোগীরা। এদিকে চাঁদপুর হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট স্হাপন হয়েছে এবং অক্সিজেন তাই সহজলভ্য, এই ধারনা এবং বিশ্বাসে চাঁদপুর জেলা ছাড়িয়ে লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুরের উপজেলা এমনকি জেলা শহরগুলো থেকে চাঁদপুরের চিকিৎসার জন্য ছুটে আসছে। কোন কোন সময়ে সেখানের চিকিৎসকরা রেফার করছেন, আবার গ্রামাঞ্চল থেকে তারা নিজেরাও চলে আসছেন। অথচ চাঁদপুরের রোগীদেরই সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বেড সংকুলান হচ্ছে না। চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, হ্যাঁ এমনটি হচ্ছে। যার ফলে যে রোগী জেলার বাহির থেকে আসছেন তারও কষ্ট আমাদের সরকারি হাসপাতালেরও কষ্ট। তিনি বলেন, মানবিক কারণে তাদের ভর্তি নিতে হয়। কিন্তু সামনে তা নেয়া সম্ভব না। কারণ জেলাতেই করোনা রোগী উপচেপড়া। সিভিল সার্জন জানান, এ ব্যাপারে আমি পাশের জেলার কয়েকজন সিভিল সার্জন এবং ঐসব জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে কথা বলেছি। অনুরোধ করেছি। এদিকে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এই মুহুর্তে এগিয়ে আসার প্রয়োজন কিনা, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের স্থান সংকুলান হওয়া সাপেক্ষে এগিয়ে আসা অবশ্যই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এক হাসপাতালে যদি ৪/৫ টা বেডের করোনা বেড রাখে সেফ মতো, তাহলে তা সম্ভব। আর এমনটি হলে করোনার ৫০ /৬০ বা তারও বেশি শয্যা বাড়ে শহর এলাকায়। সিভিল সার্জন জানান, এ ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।
অনেকেই বলেছেন, চাঁদপুরে এমন অনেক হাসপাতালের মালিক আছেন, যারা রোটারীসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িয়ে আছেন, ছিলেনও! কারো কারো হাসপাতালের শয্যা নিয়মেরও দ্বিগুন, তিনগুণ। আছেন পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং ডাক্তার। চাঁদপুরের একজন সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়েন দ্রুত বসে একটা সিদ্ধান্ত নিন। আর এটি যদি তারা নেন স্মরনীয় এবং ঐতিহাসিক মানবিক সিদ্ধান্ত। জীবন রক্ষা করতে পারবে অনেক রোগী। আর
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলো রোগির চাপ অনেকটা কমে আসবে। ধারন ক্ষমতার বাইরে অনেক অনেক রোগীর মধ্যে যারা অর্থ সামর্থ্যশালী অন্যন্য সাধ্যের মতো আছে এমন লোকরা চিকিৎসার সুযোগ পাবে। এদিকে অনেককেই বলছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আমাদের সরকারি অনেক চিকিৎসকই সেবা দেন তার নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদন করে । এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন, জেলা বিএমএ নেতারাও বিশেষ ভূমিকা নিতে পারেন। জানা গেছে, অন্যান্য জেলা শহরগুলোতে করোনার বেসরকারি সেবা আছে।
উল্লেখ্য, ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৮৩৮ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৯০ জন। ৭ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৫৫৯ জন। এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *