চাঁদপুর শহরকে নান্দনিক করে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করবো : পৌরমেয়র

চাঁদপুর পৌরসভার টিএলসিসি কমিটির সভা
: নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর পৌরসভার নগর সমন্বয় কমিটির টিএলসিসি’র সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ নভেম্বর বিকেলে পৌর পাঠাগারের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পৌর মেয়র,পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পৌর সচিব, কাউন্সিলরসহ আমন্ত্রিতরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গত সভার কার্যবিবরনী পাঠ করা হয় এবং তা অনুমোদন করা হয়। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও করনীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
টিএলসিসি’র এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল। ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের সুষ্টু বাস্তবায়নের জন্য পৌরসভার নাগরিক সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকারণের উপর গুরুত্বারোপ করে পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, পৌর সচিব আবুল কালাম ভূঁইয়া,
টিএলসিসি সদস্য রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী,ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া,চাঁদপুর সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর মোঃ নূরুল আলম,
চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রাধাগোবিন্দ গোপ, সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল,টিএলসিসির সদস্য রুপালি চম্পক,,কায়সার আহমেদ, সিসিডিএসর নির্বাহী পরিচালক মোঃ সেলিম পাটোয়ারী, মনিরা আক্তার ,নাজমা আক্তার, বিউটি বেগম ফাতেমা আক্তার প্রমুখ।
সভায় টিএলটিসি’র সদস্যবৃন্দ গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবিত বিষয়াদি চাঁদপুর পৌরসভার কর্মকান্ডে বাস্তবায়ন করার উপর জোর দেন। তারা , পৌর এলাকার যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দুরীকরন, পরিছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন, বিদ্যুত, পানি সরবরাহ, রাস্তা সমস্যাসহ সকল নাগরিক সেবার মান উন্নত করতে এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, চাঁদপুর শহরকে নান্দনিক শহরে গড়ে তুলবার জন্যে আমরা পরিকল্পনানুসারে কাজ করবো। যে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে সব দিক বিবেচনা করে করা হবে। ইতিমধ্যে একটা বৃহৎ প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। সেই অনুযায়ী আমরা উন্নয়ন কাজ করবো এবং অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে যতো শীঘ্র সম্ভব। মেয়র বলেন, সকলের মতামতের ভিত্তিতে চাঁদপুর শহরের শপথ চত্বরটি ভেঙ্গে ফেলা হবে। এখানে নামের সাথে মিল রেখেই আরো দৃষ্টিনন্দন একটি চত্বর করা হবে। এজন্য ডিজাইনও করা হয়ে গেছে। যা অবশ্যই আরো সুন্দর হবে। বর্তমান শপথচত্বরটি নামের সাথে বাস্তাবের মিল নেই। তাছাড়াও এটি বিশাল জায়গা জুড়ে করার কারনে এক পাশ থোকে অন্য পাশের যানবাহন দেখা যায় না। এর পরিসর কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের অঙ্গিকার স্মৃতিসৌধের সংস্কার করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, রেলমন্ত্রীকে চাঁদপুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমরা রেলমন্ত্রীর সাথে নাগরীক মতবিনিময় সভা করবো। সেখানে প্রস্তাব আকারে আমাদের দাবীগুলো তুলে ধরবো। বর্তমানে শহরের প্রাণকেন্দ্রে যে রেলওয়ে মার্কেট রয়েছে, সেটি পূর্বপাশে নেয়ার প্রস্তাব করবো। এতে মূল শহরের রাস্তাটি আরো প্রশস্ত হবে এবং শহরের চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে। এর পাশাপাশি পৌর এলাকার খালগুলোকে দখলমুক্ত করে খননসহ সংস্কার করা হবে।
পৌর মেয়র বলেন, চাঁদপুর শহরের হাসান আলী স্কুল মাঠে আর বিজয় মেলা হবে না। শহরের প্রাণকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মেলাটি যানজট সৃষ্টি করে। ১২ মাসের মধ্যে ১মাস মেলা চলে। তাই এবছর থেকে বিজয় মেলা হবে চাঁদপুর আউটার স্টেড়িয়ামে। সেখানে আরো বড় পরিসরে বিজয় মেলা করা হবে। আমরা পৌরসভার উদ্যোগে চাঁদপুরে একটি একুশ মঞ্চ করবো। সেটিই মুক্ত মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। যে শহীদ মিনারটি আছে এখন সেখানে, তা থাকবে না। টয়লেট, গ্রীণ রুম, সাউন্ডসিস্টেমসহ সকল ব্যবস্থা থাকবে সেখানে । যাতে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো বিনা পয়সায় তাদের কার্যক্রম করতে পারবে। মেয়র বলেন, পৌরসভার অর্থায়নে চাঁদপুর শহরে ৪টি পাবলিক টয়লেট করা হবে। এর মধ্যে যথাক্রমে পুরাণবাজার মেয়র রোড়ের মাথায়, বাবুরহাট এলাকায়, ওয়ারল্যাছ মোড় এবং পালবাজার ব্রিজের মাথায়। এই টয়লেটগুলে হবে অনেক বেশি উন্নত এবং অধুনিক। এরপর আরো কিছু পাবলিক টয়লেট করা হবে। বঙ্গবন্ধুর সড়কের দক্ষিণ পাশেও একই সমান্তরালে আরেকটি নতুন রাস্তা করা হবে। যা মৈশাদী পর্যন্ত নেয়া হবে। চাঁদপুর শহর থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত একটা রাস্তা করার চিন্তা করা হচ্ছে। এই রাস্তাটি করতে হলে পৌরসভার অর্থায়নে জায়গা কিনতে হবে। আমরা অর্থ যোগানের চিন্তা করছি। মেয়র জিল্লুর রহমান বলেন, আপনাদের মতামত ও পরামর্শকে শ্রদ্ধা রােখেই আমি এ উন্নয়ন কাজ করবো। তিনি বলেন, সড়কের যবোথবো কাজ আর হবে না। মেয়র বলেন, আমারা বড়াই অসচেতন। ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও সেখানে ময়লা ফেলা হয় না। ময়লা আবর্জনা কুড়িয়ে আনার জন্য পৌরসভা থেকে যারা যান, তাদের হাতে ময়লা ঠিক সময়ে দেয়া হয় না। আবার তারা স্থান ত্যাগ করার খুব অল্প সময়ের মধ্যে ময়লা রাস্তার ধারে বা ডাস্টবিনের চারদিকে ফেলা হয়, এটি মোটেই উচিত নয়।
এসময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দোহা, প্যানেল মেয়র হেলাল পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজ হাওলাদারসহ সকল কাউন্সিলর ও নগর সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *