তথ্য অধিকার নিশ্চিতে বিভাগীয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত কমিটি রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জেলা প্রশাসন চাঁদপুরের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের সহযোগিতায় গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় “আন্তর্জাতিক সার্বজনীন তথ্যে অভিগম্যতা দিবস” ২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ইউনেস্কো দিবসটির মূলপ্রতিপাদ্য করেছেÑ‘তথ্য জানার অধিকার: পুননির্মাণের অভিযাত্রায় চাই তথ্যে প্রবেশগম্যতা’। এছাড়াও বাংলাদেশে তথ্য কমিশন দিবসটির উপজীব্য করেছে ‘তথ্য আমার অধিকার, জানা আছে কি সবার?’ এই প্রতিপাদ্যকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোাঃ ইমতিয়াজ হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোাঃ ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, সনাক-টিআইবি দিবসটি উপলক্ষে যে প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন তা অত্যন্ত কার্যকর। এই প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অনেকাংশে সমৃদ্ধ হতে পেরেছি। সংবিধানেও লেখা আছে জনগণই সকল ক্ষতকার মালিক। অনুরুপভাবে তথ্য অধিকার আইনটিতেও জনগণকে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। সরকার তথ্য অধিকার আইনকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ আইনটির বাস্তবায়নে খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। এই আইনের ফলে আমরা এখন একেবাওে প্রান্তিক অর্থাৎ ইউনিয়ন পর্যায়ের তথ্যগুলোও ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিকার আইনটি হওয়ার ফলে এটুআই থেকেও বহু প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সির্টিজেন চার্টার স্থাপন করার ফলে আমরা তথ্যক্ষেত্রে অনেক সমৃদ্ধ হতে পেরেছি। তথ্য অধিকার আইনটি হওয়ার ফলে প্রতিটি কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য কমিশন থেকেও বিভিন্ন সময়ে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শন করছে। তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিকার নিশ্চিতের জন্য বিভাগীয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত কমিটি রয়েছে। এই আইনটি হওয়ার ফলে সাধারণ জনগণের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এই আইনটি সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আইনটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য সেমিনার ও ওরিয়েন্টশনের আয়োজন করা যেতে পারে। তিনি আলোচনা সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, তথ্য অধিকার আইন আমাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এই আইনটি হওয়ার ফলে প্রতিটা দপ্তর নড়ে চড়ে বসেছে। তথ্য অধিকার আইনটি হওয়ার ফলে বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইটে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। সচিবালয় থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলো আগের তুলনায় অনেকাংশে সমৃদ্ধ। যা এ আইনটি পাশ হওয়ার পূর্বে ছিলো না। আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হয়তো অনেকটা সহজেই তথ্য পেয়ে যাচ্ছি। তবে তথ্য অধিকার আইনটিকে সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দিবসটি আরও সম্প্রসারিতভাবে আয়োজন করার দরকার।
স্বাগত বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার মোঃ মনির হোসেন বলেন, তথ্য অধিকার আইনটি হওয়ার ফলে সরকার ও জনগণের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে তথ্য অধিকার আইনটি খুবই কার্যকর। তথ্য আইনটি হওয়ার ফলে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও এখন তথ্যের উন্মুক্ততা রয়েছে। সিটিজেন চার্টার থেকে শুরু করে যেকোন তথ্য এখন বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হয়। যার সব কিছুই সম্ভব হয়েছে তথ্য অধিকার আইনের ফলে। তথ্য অধিকার আইনের ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়ও প্রসার লাভ করেছে। তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিকার আইন মূলত জনগণের আইন। সরকারি-বেসরকারি যেকোন প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্র্ণ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তথ্য অধিকার আইনের উপর প্রেজেন্টেশন ও ওয়েবপোর্টাল স্টাডি রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ মাসুদ রানা। তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সেবা খাতের তথ্য পেতে অভ্যস্থ হলেও বর্তমান কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট মহামারির ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় তথ্য প্রাপ্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে ইন্টারনেট তথা ওয়েবপোর্টাল। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়েবপোর্টাল কাঙ্খিত মাত্রায় হালনাগাদ না থাকার কারণে জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি’র সহায়তায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর জেলা ও জেলার অন্তর্গত ০৮টি উপজেলার বিদ্যমান সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়েবপোর্টালগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি আরও বলেন, ওয়েবপোর্টালগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ঘাটতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে এনে হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা এ পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে উক্ত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের আলোকে চাঁদপুর জেলা ও এর অন্তর্গত ০৮টি উপজেলার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়েবপোর্টালগুলো শতভাগ হালনাগাদ নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়াও তিনি দিবসটির উপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।
সহকারী কমিশনার আবিদা সিফাতের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন কালের কণ্ঠ ও সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমেদ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, সনাক-চাঁদপুরের সনাক-স্বজন-ইয়েস-ইয়েস ফ্রেন্ডস ও টিআইবি’র কর্মীবৃন্দ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *