দেশে শুধু বিদ্যুতই নয়, সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, অতি সম্প্রতি যে ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে এই সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে কারা জড়িত, কারা এর ইন্ধনদাতা, কারা অর্থায়ণ করেছে তা সব বেরিয়ে আসছে। দেখা যাচ্ছে- আমরা যে ধারণা করেছিলাম সেটিই সত্যি। বিএনপি-জামায়াতসহ আরও কিছু অপশক্তি এর পেছনে রয়েছে।


শনিবার (২৩ অক্টোবর) চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় নবনির্মিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যারা এ দেশের উন্নতি চায় না। যারা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে চায় এবং সেটি অগতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কারণ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণমানুষের সরকারকে উৎখাত করা যায় না। অতএব তারা চায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে। সে কারণে তারা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। ২ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা এখনই দেশকে অস্থিতিশীল করার নীলনকশা নিয়ে নেমেছে। তাদেরকে যেকোন মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। কাউকে যেন ওই অপশক্তি ব্যবহার না করতে পারে, সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বিষয়টি বুঝাতে হবে। তাদেরকে ওই অপশক্তি কোন প্রলোভন দেখিয়ে মন্দির ভাংচুর, টাকা-পয়সা দিয়ে যেন কোন নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। আবহমানকাল থেকে আমাদের যে সম্প্রীতি রয়েছে সেটি যেকোন মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠন করেছিলেন তার আগের একশ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ১৬শ মেগাওয়াট। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৭ বছরে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এটিকেই বলে নেতৃত্ব। এই নেতৃত্বর ফলে বাংলাদেশ আজ এ অবস্থানে এসেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ৫ বছরে ১৬শ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়ার্টে উন্নীত করেছিলেন। ৫ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করেছিলেন প্রায় তিনগুণেরও বেশি। এরপর বিএনপি জামায়াতের ৫ বছর এবং অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২ বছরে এই ৭ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতো দূরে থাক, তা কমে হলো ৩ হাজার ৮শ মেগাওয়াট। এই হলো বিএনপি-জামায়াত এবং সুশীলদের সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেই ৩৮০০ মেগাওয়াট থেকে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতে উন্নীত করেছেন। তিনি যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা।
ডা. দীপু মনি আরও বলেন, দেশে শুধু বিদ্যুৎ নয়, অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছেন। নদীর তলদেশ দিয়ে চরে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে- এটি কেউ কোন দিন চিন্তা করেছিল? এখন সবারই আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আগে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসতো, আর এখন হঠাৎ হঠাৎ কখনো যায়। সব সময় বিদ্যুৎ থাকে। এটিই হলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সৌন্দর্য্য। মানুষের যা প্রয়োজন, উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন তার সবকিছুই তিনি করছেন।
আজকে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে আমাদের নিজেদের একটু সচেতন ও সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে কিন্তু অনেক পয়সা লাগে। যে মূল্যে সরকার আমাদের বিদ্যুৎ দেয়, একেক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে তার চেয়ে আরও বেশি খরচ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, পৌরমেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, কমিল্লা পল্লী বিদ্যুত অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎএর ডিজিএম দেব কুমার মালু, প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী প্রমুখ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *