পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ঝাড়লেন তৃণমূলের নেতারা

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের নামে একাধিক মামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার কচুয়ার নেতারা
: নিজস্ব প্রতিবেদক :
দলের বেশিরভাগ এমপিদের সাথে তৃণমূলের সম্পর্ক নেই। অনেক নেতা পদ পাওয়ার পর নিজেদের স্বার্থে দলের মধ্যে-তৃণমূলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। তাই সবার আগে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হলেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হবে। এভাবেই নিজ দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা।
২ অক্টোবর শনিবার চাঁদপুর চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভার শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, আজকে আমরা বক্তব্য রাখবো না। আজ আমরা আপনাদের কথা শুনবো। আপনারা প্রত্যেকে প্রাণখুলে কথা বলবেন। প্রয়োজনে রাত পর্যন্ত আপনাদের বক্তব্য শুনবো।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের বিভিন্ন ইউনিটের তৃণমূল নেতারা বক্তব্য রাখেন। কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ইকবাল আজিজ শাহীনসহ উপজেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইসিটি আইন করেছে, দলীয় কোন্দলের কারণে সেই আইনে আওয়ামী লীগের নেতাদেরই ঘায়েল করা হচ্ছে। কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির আওয়ামী পরিবারের হয়েও তিনি আইসিটি আইনে জেল হাজতে। তিনি ভুল করে থাকলে, সাংগঠনিক ভাকে তার ভুল ধরিয়ে দিন। তাকে জেলে যেতে হবে কেন। তার মতো একজন তৃণমূল নেতা, সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ার পরেও তাকে কারা অন্তরিন করে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কারা করছে ষড়যন্ত্র।
কচুয় উপজেলার তৃণমূল নেতারা বলেন, কচুয়ায় চলছে আমলা লীগ। কচুয়ায় তিন জন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন। তার পরেও সেখানে দলীয় কোন্দল থাকবে কেন। তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা কখনো একসাথে বসেন না। সেখানে আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপ প্রকাশ্য। আমরা মনে করি কেন্দ্রীয় নেতাদের আগে একত্রে বসতে হবে। বড় নেতারা ঐক্যবদ্ধ হলে তৃণমূলও ঐক্যবদ্ধ হবে। আমাদের নিজেদেন বদনাম নিজেদের করতে লজ্জা হয়। আসুন সব ভুলে আমরা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ হয়ে যাই।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ ক’জন তৃণমূল নেতারা বলেন, আমাদের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আর এলাকায় আসেননি। তিনি অনেক পরিক্ষিত নেতা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরও চিনেন না। তিনি বিএনপি জামায়াতের লোকদের আওয়ামী লীগের নেতা বানাচ্ছেন।
মতলব উপজেলার মেয়র সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা ঘরে ঘুমাতে পারে না। আওয়ামী লীগেন সমাবেশে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। বর্তমান এমপি তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের অবমূল্যায়ন করেন।
বক্তারা বলেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায় স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন যোদ্ধা। তিনি মতলবে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথছ সেই মতলবে মায়া চৌধুরীর লোকদের ওপর হামলা-মামলা করা হয়। যা আমাদের জন্যে লজ্জার। তাই আমরা মনে করি, মতলবের দুই নেতাকে এক মঞ্চে বসাতে হবে।
এদিকে একই মঞ্চে বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা তাদের বক্তব্যে এমপি-মন্তুী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষে কথা বলেন। তারা এমপি-মন্তুী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গুণগান গেয়ে তাদের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *